২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যাম্পাস সংবাদ


জাবিতে পাখিমেলা

প্রকৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ পাখির প্রতি মানুষের ভালবাসার কমতি না থাকা সত্ত্বেও, থেমে নেই পাখির বিলুপ্তি। তাই পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর পাখিমেলার আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। পাখির কিচিরমিচির ডাক আর পাখিপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের একমাত্র পাখিমেলা-২০১৫। মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। অতিথি পাখির সরব সান্নিধ্যে সারাটা দিন পার করেছে দেশী-বিদেশী অসংখ্য পাখিপ্রেমী।

‘পাখপাখালি দেশের রতœ, আসুন সবাই করি যতœ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের যৌথ আয়োজনে পাখিমেলায় দিনভর পাখিপ্রেমী, দর্শণার্থী, পর্যটক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ মেলাপ্রাঙ্গণ কোলাহলপূর্ণ আর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মেলায় মোট সাতটি স্টল সাজানো হয়। মেলায় বিভিন্ন স্টলে বিলুপ্তপ্রায় মমি করা প্রদর্শিত দেশী ও পরিযায়ী পাখির মধ্যে কালেম, কাঠময়ূর, কালো কূট, জলপিপি, জলময়ূরী, জলমুরগি, ম-াটিয়া, ময়না, শঙ্খচিল, লক্ষ্মীপেঁচা, ফিঙে, তিতির, কবুতর, পাতি ক্যাস্ট্রো উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া ছবিতে প্রদর্শিত পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চিতিপেট, মাছমুরাল, হুতোমপেঁচা, পালাসি কুরাঈগল, দাড়ি রাজহাঁস। পাখিমেলার এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই মৃদু শীতকে উপেক্ষা করে পাখিপ্রেমী দর্শনার্থীরা জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে ভিড় জমায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলাপ্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা ও দূর-দূরান্ত থেকে এসব দর্শনার্থী আসে। শুক্রবার ছুটির দিনে নগরের শত-ব্যস্ততার মধ্যে অবসাদ দূর করতে জাবি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আর পাখিমেলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে কেউ এসেছে পুরো পরিবার নিয়ে, আবার কেউ তার প্রিয়জনের সঙ্গে এসেছে, কেউবা আবার এসেছে বন্ধুরা মিলে। তাদের মধ্যে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর মহাখালী থেকে আগত দম্পতি দেবাশিস বিশ্বাস ও সীমা সরকার জানান, কাজের মধ্যে শুক্রবারের ছুটির দিনে পাখিমেলায় এসে এর সৌন্দর্য উপভোগ করছি। আর ভাল লাগে বলেই এ ক্যাম্পাসে বার বার আসি। মেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী দিগন্ত বলে, ‘এখানে এসে খুব আনন্দিত হয়েছি। তবে আরও সকালে আসতে পারলে আরও কিছু দেখতে পেতাম’। উত্তরা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা জয়ন্ত সরকার বলেন, ‘আমি প্রকৃতিপ্রেমী। তাই অসাধারণ এ মেলাটি দেখতে এসেছি। যতদিন আমরা এ প্রকৃতি রক্ষা করতে পারব ততদিন আমরা ভালভাবে বেঁচে থাকব।’

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। সকাল থেকেই আগত দর্শনার্থীরা পাখি বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এসবের মধ্যে ছিল পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা দিয়ে স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, স্লাইডের মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সবশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

দীপঙ্কর দাস

বিইউবিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) রূপনগরস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে ‘সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের স্লোগান ছিল ‘নিরাপদ সাইবার জগৎ, এটাই হোক আজকের শপথ।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবু সালেহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকৌশলী এম আজহারুল হক এবং সভাপতি ছিলেন প্রকৌশল ও ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোমিনুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মিঞা লুৎফর রহমান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামছুদ্দীন আহমেদ ও প্রভাষক মো. মাহবুবুর রহমান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে সাইবার নিরাপত্তা যোগাযোগ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন এবং ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ পরিচালক শাহরিয়ার মো. তাপস ও এ্যাডভোকেট সূচনা ঘটক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক