২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গাইবান্ধায় বিলুপ্তির পথে কাউনের মোয়া


আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা থেকে ॥ গাইবান্ধার পল্লী অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর বন্দরে সকাল বিকেলের নাস্তা হিসেবে জনপ্রিয় এতদঞ্চলের আদি মিষ্টান্ন কাউনের মোয়া এখন বিলুপ্ত প্রায়। ফলে এ কাউনের মোয়া তৈরি নির্ভরশীল পরিবারগুলো এখন চরম বিপাকে।

গাইবান্ধা জেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দুয়ারপাড়া গ্রামের ২০টি পরিবার কাউনের মোয়া তৈরি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এই কাউন হচ্ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হলুদ দানাদার ফসল। যা রোদে শুকিয়ে লোহার কড়াইয়ে ভেজে তার সঙ্গে গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় মোয়া। এছাড়া কাউন সিদ্ধ করে খিচুড়ি রান্না করেও খায় গ্রামের লোকজন। গ্রামেগঞ্জে এখনও কাউনের মোয়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বে¡ও সারা বছর কাউনের সরবরাহ না থাকায় মোয়ার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে কৃষি সেক্টরে কৃষকরা ধান উৎপাদনের দিকে বেশি মাত্রায় ঝুঁকে পড়ায় কাউনের উৎপাদন যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। এদিকে চাহিদা থাকা সত্ত্বে¡ও সারা বছর কাউনের মোয়া তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে না পারায় মোয়া তৈরির পেশাজীবী কারিগররা চরম বিপাকে পড়েছে। মৌসুম সময়ে যে পরিমাণ কাউন সংগৃহীত হয়। তাতে ৬ মাসের বেশি এ মোয়া তৈরির কাজ চালু রাখা যায় না। ফলে বাকি ৬ মাস কারিগরদের দিনমজুরি থেকে শুরু করে অন্য পেশায় জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

জানা গেছে, এক মণ কাউন থেকে তৈরি মোয়ার দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। যা বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা আয় করা যায়। মোয়া তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি পরিবারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন করে নারী শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে এই কারিগররা। যে পারিশ্রমিক পান তা দিয়েই তারা তাদের সংসার চালান। কাউনের মোয়া তৈরি করেই ওই গ্রামের প্রায় ৮০ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মোয়া তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলো জানালেন, অর্থ সঙ্কটের কারণে তাদের এই ব্যবসার প্রসার হচ্ছে না। প্রতিবছর ব্যবসার শুরুতে মহাজনদের মাল বাকিতে দিতে হয়। পরে যখন মহাজনরা লাভের মুখ দেখেন তখন তাদের টাকা পরিশোধ করেন। বলা যায়, মহাজনদের কাছে এক রকম জিম্মি থাকতে হয় তাদের।

তাই ব্যাংক থেকে যদি এসব পরিবারকে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা যেত তাহলে কাউনের মোয়া তৈরি করে গ্রামের এই পরিবারগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে দেশের বাইরেই রফতানি করতে পারতেন। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো। এছাড়া কৃষকরাও একটি বিকল্প ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে লাভবান হতে পারতেন।