১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিয়ের পিঁড়িতে ১৪ শর্ত


বিয়ের সব আয়োজনই সম্পূর্ণ। কোথাও শঙ্খ বাজছে, কোথাও বা উলুধ্বনি। বিয়েরও পিঁড়ি পাতা হয়েছে, মন্ত্র পড়া চলছে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বর সনাতন শর্মাকে দু’চোখে দেখে নিচ্ছে কনে। ঠিক তখনই কনের বাবার দিকে একটি কাগজ এগিয়ে দিল ‘বর বাবাজি’। তাতে লেখা ১৪ শর্ত। আর তা পড়ে চক্ষু চড়কগাছ কনের বাবার। বরের দাবি, বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই কনের তরফে চুক্তিপত্রে সই করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী, কোন ঝামেলা বা অশান্তি হলে কনে পক্ষ থানায় অথবা আদালতে মামলা বা অভিযোগ করতে পারবে না।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের নদিয়ার হাসখালি এলাকায়। যতই কনের বাড়ির লোক সনাতনকে বোঝান তিনি তা কানে তুলতে নারাজ। এদিকে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যায়-যায়। এরপরই খেপে গেল কনে। আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে সোজা জানায়, ‘লগ্নভ্রষ্ট হতে হলে হব। কিন্তু বিয়ের আগে যে শর্ত দেয়, তার ঘর করবই না। তাতে আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে।’ এরপর বরকে দু’চার ঘা দিয়ে ঘরে তালাবন্দি করা হয়। অবস্থা বেগতিক বুঝে বরযাত্রীরা সরে পড়ে। বরের বোন বলেন, ‘ভাই যা করেছে, আমার মেয়ের ক্ষেত্রে হলে আমিও বিয়ে দিতাম না। ওর সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না।’ তাতেও চিড়ে ভেজেনি। বরং বিয়ের আয়োজনে যে খরচ হয়েছে, ক্ষতিপূরণ বাবদ তা দিতে হবে বলে দাবি করে গ্রামবাসী। তাছাড়া বরপক্ষ কিছু নগদও নিয়েছিল বলে কনেপক্ষের অভিযোগ। কিন্তু শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটকে রাখা হলেও, সনাতন ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হননি।

শনিবার দুপুরে পুলিশ বরকে উদ্ধার করতে গেলে গ্রামবাসী তেড়ে আসে। পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। পরে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।

সূত্র : আনন্দবাজার