২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে অচলাবস্থা


স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ নগরীর অভিজাত আবাসিক এলাকা উপশহরের বিভিন্ন ড্রেনের পচা বর্জ্য উপচে পড়ছে সড়কে। মশার দল বাসা বাঁধছে সেসব ড্রেনে। দিনে রাতে সমানতালে মশার উৎপাতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী।

শুধু তাই নয়, নগর ভবনের সব ধরনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নগরজুড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেলেও মশক নিধনের কোন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়নি। যত দিন যাচ্ছে ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নাগরিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে চরম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের মুখে নাশকতামূলক কাজে জড়িত থাকার দায়ে অন্তত ১০টি মামলা ঘাড়ে নিয়ে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দেড় মাসের বেশি সময় ধরে পলাতক। আত্মগোপনে আছেন প্যানেল মেয়র ও বেশিরভাগ বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর। ফলে সিটি কর্পোরেশনের সব ধরনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। থমকে গেছে নগর উন্নয়ন কাজ। কর্মচারীরাও সময়মতো বেতন না পাওয়ার হতাশার মধ্যে আছেন।

জানা গেছে, একাধিক পেট্রোলবোমা হামলা মামলার আসামি হওয়ায় মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সিটি কর্পোরেশনে অনুপস্থিত। তার মোবাইলও বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাই কাজকর্ম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রাসিকের এক কাউন্সিলর জানান, নগর ভবনের সব ধরনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নগরবাসী নানান সমস্যায় জর্জরিত। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোন প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বরং নগরীর শালবাগান মার্কেট, নওদাপাড়া মার্কেট, ভদ্রা মার্কেট, লক্ষ্মীপুর ক্লিনিক, বর্ণালী সিনেমা হলের পেছনের ট্রেনিং সেন্টার, আরডিএ মার্কেটের পাশে দোকানঘর নির্মাণকাজগুলো দরপত্র হওয়ার পরও বাতিল করা হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকা- থেমে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে রাজস্ব আদায়েও গতি কমে গেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনে নিয়মিত ৪৮২ জন ও মাস্টার রোলের ২ হাজার ১৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এক মাস দেরিতে হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, মেয়র হচ্ছেন কর্পোরেশনের অভিভাবক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের মধ্যে কোন প্রাণচাঞ্চল্য নেই। এছাড়া রাসিকের বিএনপিপন্থী কাউন্সিলররাও পলাতক রয়েছেন। প্যানেল মেয়র গ্রেফতার হয়ে হাজতে রয়েছেন।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, সিটি কর্পোরেশন চলছে, তবে তারা একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, মেয়র না থাকলে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না। সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা জানান, চলমান পরিস্থিতিতে মেয়র আর নগর ভবনে আসছেন না। জানা যায়, বর্তমানে মেয়রের নামে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ জানুয়ারির পর থেকে নাশকতার দায়ে অন্তত ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।