১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্রিটেনের ওপর অনাস্থা


ব্রিটেন এমন এক বন্ধুতে পরিণত হচ্ছে, যার ওপর আস্থা রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল। মার্কিন সেনা প্রধান জেনারেল রেমন্ড ওডিয়েরনো বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের নিরাপত্তার প্রতি ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতির ওপর তার দেশের আস্থা লোপ পাচ্ছে। তিনি ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

দু’দশকেরও বেশি সময় আগে ঠা-া লড়াইয়ের অবসান হওয়ার পর কখনও আমেরিকা পাশ্চাত্য জোট ন্যাটোর প্রতি হুমকি মোকাবেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র হিসেবে ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি পূরণের সামর্থ্য নিয়ে গুরুতর সন্দেহপোষণ করেনি।

এখন করছে। কারণ কোয়ালিশন সরকার ২০১০ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা হয়। এতে কিছুসংখ্যক সিনিয়র মার্কিন অফিসার ও রাজনীতিক ভবিষ্যতে যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্রিটেনের কোন কার্যকর মিত্র হওয়ার সামর্থ্য রয়েছে কিনা সেই প্রশ্ন প্রকাশ্যে উত্থাপন করেছেন। ব্রিটিশ আর্মি, রয়েল এয়ার ফোর্স ও রয়েল নেভি সবার ক্ষেত্রেই এমনভাবে ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে যে, ব্রিটেন অতীতে সমর্থন করেছিল এমন ধরনের মিশন হাতে নেয়ার সামর্থ্য আর ঐসব বাহিনীর নেই। এখন জেনারেল ওডিয়েরনোই বলেন, সর্বশেষ সিনিয়র অফিসার যিনি প্রকাশ্যে তার উদ্বেগ ব্যক্ত করলেন। তিনি গত সপ্তাহে ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন যে, তিনি প্রতিরক্ষা বাজেট হ্রাসের প্রভাব নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। অধিকন্তু জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক উবামা ভিন্নমত হওয়ার পর ওডিয়েরনোর মন্তব্য প্রকাশ পেল। ওবামা ক্যামেরনকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট অভ্যন্তরণী উৎপাদনের শতকরা ২ ভাগের কমে নামিয়ে আনার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। কারণ, ব্যয় হ্রাস করা হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত জোটের (ন্যাটো) অন্যতম প্রধান নীতির বাস্তববায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ওপর নির্ভর করা যেতে পারেÑ এটিই ওই নীতির মূলকথা। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযানই হোক বা আফগানিস্তানকে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী দলগুলোর নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত না হতে দেয়ার অভিযানই হোকÑ মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন এটি ধরে নেয়া হয় যে, ব্রিটেন সেক্ষেত্রে ১০ হাজারেরও বেশি কম্ব্যাট সৈন্য এবং জঙ্গী বিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করবে।