২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

লালমনিরহাটে রাজাকারপুত্র আ’লীগ নেতার কাণ্ড


নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ৩ মার্চ ॥ লালমনিরহাটে রাজাকারপুত্র আওয়ামী লীগ নেতার কা-। সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন করতে গিয়ে গণধোলাই দিয়ে গ্রামবাসী বেঁধে রেখেছিল। বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে সোমবার বিকেল ৫টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসেছে সালিশ বৈঠক।

প্রত্যক্ষদর্শী, ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামবাসী সূত্র জানয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রামের জনৈক অধীর চন্দ্রের বাড়িতে ৪টি মোটরসাইকেলে কয়েক দুর্বৃত্ত গিয়ে নির্যাতন করে। এই সময় বাড়ির গৃহবধূ অঞ্জলি রানীকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিবারটি বাড়িতে ডাকাত পড়েছে চিৎকার শুরু করে দেয়। গ্রামবাসী এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বাড়ির সদস্যরা আমজান হোসেন (৩৫) নামের একজনকে আটক করে। পরে তাকে গ্রামবাসী অন্ধকারে গণধোলাই দেয়।

গণধোলাইয়ের শিকার আমজান হোসেন জেলা সদরের মোগলহাট ইউনিয়নের কুখ্যাত রাজাকার অবসরপ্রাপ্ত চৌকিদার মোঃ আব্দুলস ছাত্তারের ছেলে। সেখানে মোগলহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনাটি চাউর হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবের কাছে পৌঁছায়। পরে নির্যাতনের শিকার পরিবারটিকে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে চেয়ারম্যানের সহায়তায় লোকজন উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, সোমবার বিকেল ৫টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালায়ে দুই পক্ষকে ডাকা হয়। সেখানে সালিশ বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার মোঃ আব্দুস ছাত্তার মোগলহাট ইউপিতে চৌকিদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল। এরই সুবাদে সে পাকিস্তানী সেনাদের সহায়তা করেছে। স্থানীয় মুসলিম লীগ ও জামায়াতপন্থীদের নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করে নিরীহ গ্রামবাসী, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে নির্মম অত্যাচার করেছিল। এমনকি মোগলহাট রেলওয়ে সেতুর নিচে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। সে এসব অত্যাচারের কথা গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: