২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অফিস ও ঘর সাজাতে ফার্নিচার


মানুষের রুচি ও পছন্দের এক বিরাট পরিবর্তন ইতোমধ্যে পরিলক্ষিত হতে দেখা যাচ্ছে। দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী এবং উপকরণে এর এক নিটোল ছাপ জীবনকে যেমন করে তুলেছে উপভোগ্য তেমনি জীবনের প্রতিটি রেখায় আর বাঁকে রেখে চলেছে ছন্দের নিবিড় অনুরণন।

বিশেষ করে সংসার ও সমাজ জীবনে পরিপাটি থাকার যে অনুষঙ্গ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ঘরের আসবাব সামগ্রী। কাঠের, বার্মাটিকের, মেলামাইন-বোর্ড কিংবা মালয়েশিয়ান বোর্ডে তৈরি খাট, আলমিরা, ওয়ারড্রোব, চেয়ার, টেবিল, ডাইনিং টেবিল, রিডিং-টেবিল, শো-কেস, সোফা থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য আসবাব না হলে কি একটা পরিবারের ছন্দে ফেরা হয়? হয় না, আর সে কারণেই মানুষ তার পরিবারের প্রয়োজনীয় আসবাব সামগ্রী সাধ্যমতো ক্রয় করে ঘর সাজানোর কাজটি সম্পন্ন করেন। এত গেল হোম ফার্নিচারের গল্পকথা।

এ ছাড়া অফিস ফার্নিচারেও এসেছে এক নান্দনিক পরিবর্তন। একটা অফিস রুম অথবা একটা অফিসকে শৈল্পিক রূপে সেন্ট্রালি ওয়েল ইন্টেরিয়র ডেকোরেটিং করে শিল্পময় করে তোলার ছবিটাও ইদানিং বেশ চোখে পড়ার মতো। হোম ফার্নিচার এবং অফিস ফার্নিচারের যে কনসেপ্ট আজ বাস্তবিকতার চিত্রে উদ্ভাসিত। বিশেষ করে বাড়ি বা অফিসের সব আসবাব সামগ্রীর ম্যাচিং ডিজাইনের বোধটাকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং ক্রেতাকে শিল্পিত দৃষ্টিভঙ্গির ফর্মে নিয়ে এসে একটা অসাধারণ বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে পাইওনিয়র হোম এ্যান্ড অফিস ফার্নিচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অটবি। অটবির পাশাপাশি আরও বড় হাউস এই ধারায় যুক্ত হয়ে সুনামের সঙ্গে ফার্নিচার ভুবনে এক যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে।

এত গেল সামগ্রিক ফার্নিচারের একটা শৈল্পিক দিক। ব্র্যান্ডেড এ সকল প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ফার্নিচার শিল্পে একটা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফার্নিচার মার্কেট। এই মার্কেটেরও রয়েছে বিশাল ক্রেতাগোষ্ঠী। যাঁরা মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের চাহিদা এই ব্যক্তি উদ্যোগের মার্কেট ঘিরেই গড়ে উঠেছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পান্থপথে গড়ে ওঠে এই ফার্নিচার মার্কেট। যেখান থেকে স্বল্পমূল্যে গৃহ আসবাব সংগ্রহ করা হতো। এখনও হয় এবং তা আরও ব্যাপক এবং বিস্তৃতভাবে। এক সময় সীমিত পরিসর থেকে আরও বিশালত্ব যেমন অর্জন করেছে, পেয়েছে মানুষের আস্থাও। আর তাই মধ্যবিত্ত নগরবাসীর গৃহ আসবাবের প্রয়োজন দেখা দেয়া মাত্র প্রথমেই যে মার্কেটের কথা সবার আগে চিন্তায় এবং আলোচনায় আসে সেটি হলো পান্থপথের ফার্নিচার মার্কেট।

ঢাকা শহরে এখন দেড় কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। ফলে ধীরে ধীরে ঢাকার চার পাশই ঝুঁকে পড়েছে নগরায়ণের দিকে। গড়ে উঠছে বাড়িঘর। রিয়েল এস্টেট প্রকল্পও শহরের উপকণ্ঠের সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর সুফলও পাচ্ছে সকলে। যেহেতু নিয়মিত বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, নির্মিত হচ্ছে এ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট। আর এই নতুন নতুন ফ্ল্যাট, বাড়িঘরের সাজসজ্জার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে গৃহ সামগ্রী। কিন্তু ঢাকার যানজট, পরিবহনের ধকল, যেখানে একটা ফ্যামিলির দুশ্চিন্তার কারণ ঠিক সে সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর অদূরে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম তীরের বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স (যা চিটাগাং রোড, শিমরাইল খ্যাত) এর দু’শ’ গজ দক্ষিণে সিদ্ধিরগঞ্জের (নারায়ণগঞ্জ- ডেমরা সড়ক) গড়ে ওঠে এক ফার্নিচার মার্কেট। এই ফার্নিচার মার্কেট থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে রয়েছে আদমজী ইপিজেড।

একদিকে আদমজী ইপিজেডের চাহিদা, অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় রূপগঞ্জ এবং সোনারগাঁয়ের ফ্ল্যাট, বাড়িঘর, অফিস শিল্পাঞ্চলসহ নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ফার্নিচারের চাহিদা পুরনেও সিদ্ধিরগঞ্জে গড়েওঠা এই ফার্নিচার মার্কেট ইতোমধ্যে বেশ নজর কেড়েছে এবং ক্রমশ তা জনপ্রিয়তাও অর্জন করছে। আর এই মার্কেটে যেমন ব্যক্তি উদ্যোগে গৃহ আসবাব তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে, তেমনি এখানে অটবির ফার্নিচারও পাওয়া যাচ্ছে ডিলার পদ্ধতির মাধ্যমে।

অনেকেই এখন সুনামের সঙ্গে এখানে তাদের ফার্নিচার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বলা চলে সিদ্ধিরগঞ্জের এই ফার্নিচার জোন আগামীতে আরও সমৃদ্ধ ও প্রসিদ্ধি অর্জন করবে।

যাপিত ডেস্ক