২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আউটসোর্সিং থেকে এক শ’ কোটি ডলার আয়ের টার্গেট


ফিরোজ মান্না ॥ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বছর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার টার্গেট নিয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে ৩৪ হাজার দক্ষ তথ্য প্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাঁচটি ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ‘লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ-এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড গবর্নেন্স (এলআইসিটি) নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তারা এখন ঘরে বসেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছেন। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আউটসোর্সিয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য প্রযুক্তিবিদরা এখন আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের তরুণ-তরুণীরা আউটসোর্সিং করতে পারবে।

বর্তমান বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং আধুনিক ও সম্মানজনক পেশার স্বীকৃতি পেয়েছে। ঘরে বসে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ভাল অঙ্কের টাকা আয় করছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আইসিটিতে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ভারত, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের ব্যাপক আগ্রহের সঙ্গে কাজ করছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে তারা এখন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পথ হাঁটছে। তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দেশকে তরুণরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা এখন তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠছে। আগামী দিনে এ তরুণরাই দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে সব বন্ধ দরোজা। এখন বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশে উন্নয়ন ঘটবে। এ খাতে প্রতিবছর ৫Ñ৬শ’ কোটি টাকা আয় হতে পারে। বাংলাদেশের আউটসোর্সিং কর্মীদের দক্ষতা অন্য যে কোন দেশের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ বছর ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫৪তম অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের হাতে নেয়া প্রকল্পটির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ৩৪ হাজার আইটি পেশাজীবীর মাধ্যমে এক লাখ ২০ হাজার তরুণ-তরুণী পরোক্ষভাবে চাকরির সুযোগ পাবেন। পাঁচটি মেয়াদে প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ৫৭২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ৫৭১ কোটি ৯৭ লাখ ২ হাজার এবং সরকারী তহবিলের ৫১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

বিসিসির মতে, বাংলাদেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। তাদের ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। সাড়ে চার হাজার বেশি ইউনিয়নে তথ্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। আইসিটির উন্নয়নের জন্য হাতে নেয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশে দক্ষ জনবল তৈরি হবে। এ জনবলের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে নতুন প্রজন্ম এখন এক দেশের নাগরিক নয়। তারা এখন বিশ্ব নাগরিক। বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সেক্টরে কাজ করছে। দেশেও বহু তরুণ-তরুণী বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারছে সাধারণ মানুষ। এটা অত্যন্ত শুভ দিক। বর্তমান সরকার গোটা দেশকে শতভাগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ৬৪ জেলা ও ১৯৭ উপজেলা ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাই ফাইবার অপটিক্যালের আওতায় আনা হবে। আমাদের তরুণ-তরুণীরা বর্তমানে এ সেক্টর থেকে প্রতিবছর ২শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছেন। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব হবে।

বিসিসি জানিয়েছে, দেশে তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে অনেক মেধাবী রয়েছেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সেক্টরটি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচীর কারণে সেক্টরটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গ্রামের মানুষও পিছিয়ে থাকবে না। এখন অশিক্ষিত মানুষও মোবাইল চালাতে জানেন। ‘স্কুল গোয়িং’ বাচ্চাও এসএমএস লিখতে ও পড়তে পারে। খুব বেশি দিন লাগবে না পশ্চিমাদের সঙ্গে তাল মেলাতে। তথ্য প্রযুক্তি সেবা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নেয়া পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি আউটলেট, কাগজবিহীন ভর্তি পরীক্ষা, পিডিবি ও তিতাস গ্যাসের বিল পেমেন্ট, ডেমরায় কম্পিউটারাইজ ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কলসেন্টার, শিক্ষা পদ্ধতিতে আইসিটি, এসএমএসভিত্তিক ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য, হজ ব্যবস্থাপনা, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফল প্রকাশ, ট্রেনের টিকেট কেনা, অনলাইন সার্ভিস ট্র্যাকিং সিস্টেম, অনলাইনে ডেইলি মার্কেট প্রাইস জানা, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস অটোমেশন, রাজউকের কম্পিউটারাইজেশন এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, সরকারী, জাতীয় ওয়েব পোর্টাল, আইনবিষয়ক ওয়েব পোর্টাল, দুর্যোগ পূর্বাভাস, ভোটার ডাটাবেস, পানি ও সামুদ্রিক সম্পদ পরিকল্পনা, কৃষিসম্পদ পরিকল্পনা, এডুকেশন প্ল্যানিং, বাংলাদেশ ব্যাংক অটোমেশন, সড়ক ও জনপদ পরিকল্পনা অটোমেশন উল্লেখযোগ্য। দেশের ৫ উপজেলায় কমিউনিটি ই-সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্য উপজেলাগুলোতেও ই-সেন্টার স্থাপন করা হবে।

সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচী, আর জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এ মাধ্যমে জীবন-জীবিকার অনেক কিছুই জড়িয়ে আছে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। গ্রামের মানুষের কাছেও দিন-রাতের পার্থক্যের দেশ আমেরিকার দূরত্ব নেই। দেশের মানুষ এখন নিজেদের বিশ্ব নাগরিক ভাবতে শুরু করেছে। সীমান্তের কাঁটা তার তাদের আটকে রাখতে পারছে না। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ অধিকার আদায় করছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্বৈরশাসক বিরোধী আন্দোলন করে তাদের পতন ঘটিয়েছে। ঘরে বসেই গোটা বিশ্বকে দেখতে জানতে পারছে দেশের মানুষ। মানুষের এই এগিয়ে যাওয়াকে আরও গতিশীল করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বেশকিছু তথ্য প্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরি করা হয়েছে।