২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে সৈকত রানী কক্সবাজারের চেহারা


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজারবাসীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে রবিবার রামুতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রামুর বৌদ্ধ বিহার ও পল্লীতে চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার রামুতে প্রাচীন ১২টি বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ ও বড়ুয়া পল্লীতে সহিংস হামলা চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছিল। ঘটনার পর ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। কথা বলেন বড়ুয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এক বছরেই গড়ে তোলা হয় দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার। পুনর্নির্মাণ করে দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্ত বসত বাড়িগুলো। ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নবনির্মিত বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী রামু আসলে ওই সময় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সচেতন লোকজনের পক্ষ থেকে রামুতে একটি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প নির্মাণের দাবি তোলা হয়। ঐ দাবির প্রেক্ষিতেই সরকারের তরফ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেনানিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া রামুর নিরাপত্তার স্বার্থে একই বছরের মধ্যে একটি নতুন বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নও (বিজিবি-৫০) স্থাপন করা হচ্ছে। সেই কাক্সিক্ষত রামু সেনানিবাসের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান কাল রবিবার (১ মার্চ)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করবেন।

এদিকে মহান স্বাধীনতা মাসের সূচনালগ্নে জেলার রামুতে স্থায়ী এ সেনানিবাসের আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলনকে ঘিরে সেনানিবাস এলাকাসহ রামু এলাকা সাজছে বর্ণিল সাজে। রামুতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্রে প্রকাশ, গত ৬ বছরে কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ব্রিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নে বদলে গেছে সৈকত রানী কক্সবাজারের চেহারা। এছাড়াও বাংলাদেশকে অপার সম্ভাবনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে ইতোপূর্বে উদ্বোধন করেন দোহাজারি-ঘুমধুম রেল লাইন। চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন হলে চির বসন্তের শহর চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন হবে। আর এতে অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হবে। এই চলমান প্রক্রিয়ায় আরও রয়েছে জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র, তরল গ্যাস-টার্মিনাল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়ন। এর আগে বহু প্রতীক্ষিত কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: