২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইইউ থেকে বাংলাদেশে পুরনো জাহাজ রফতানি বন্ধ হচ্ছে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৮টি দেশ থেকে পুরনো জাহাজ বাংলাদেশে রফতানি বন্ধের জন্য তৈরি নীতিমালার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপে ভারত ও বাংলাদেশসহ পুরনো জাহাজ আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ইউরোপীয় কমিউনিটি শিপ ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই ওয়ার্কশপে বিভিন্ন দেশের ৪৭ জন প্রতিনিধি অংশ নেয়।

নতুন এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ইইউর ২৮টি দেশ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পুরনো জাহাজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতি বছর বিশ্বে যে পরিমাণ পুরনো জাহাজ কেনাবেচা হয় তার ২০ শতাংশ ইইউভুক্ত দেশগুলোর। এই জাহাজ রফতানি বন্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে বাংলাদেশ।

এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে ৬ মাস ও কার্যকর করতে আরও ২ বছর সময় লাগবে।

ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে চীন ও তুরস্ক বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। জাহাজ কাটার জন্য সৈকতে ভিড়ানোর (বিচিং) পদ্ধতি অনুসরণ করায় তুরস্ককে রফতানি বন্ধের নীতিমালার আওতায় রাখা হয়নি। কারণ তুরস্ক ইইউভুক্ত না হলেও ইউরোপীয় ঘরানার। একই পদ্ধতিতে পুরনো জাহাজ বিচিং করার পরও বাংলাদেশকে অযৌক্তিকভাবেই এই নীতিমালার আওতায় রাখা হয়েছে।

ওয়ার্কশপে যোগ দেয়া পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশে জাহাজ রফতানি বন্ধের নীতিমালা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের লক্ষাধিক হতদরিদ্র মানুষ এ শিল্পে কাজ করে। জাহাজ রফতানি বন্ধ করে শ্রমিকদের বেকার করে দেয়া অমানবিক।’

গত বছর ইইউর পার্লামেন্ট মেম্বার জিন লেনর্বাটসহ ইইউ রাষ্ট্রদূতের একটি দল এদেশের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো পরিদর্শন শেষে পরিবেশগতভাগে সন্তোষজনক মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও দেশী-বিদেশী এনজিওর চাপে এ নীতিমালা তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।

পুরনো জাহাজ কাটার জন্য বিদেশীদের বেঁধে দেয়া নিয়মানুসারে চীনকে প্রতি টনে ২০০ ডলার ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি মেট্রিক টন পুরনো জাহাজ কিনছে ৪০০ ডলার করে।

ওয়ার্কশপে অংশ নেয় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন, ইউকে চেম্বার অব শিপিং, ফ্রান্স, গ্রীস, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইইউর এ নীতিমালা বাস্তবায়নের আগেই ঢাকায় অবস্থিত ইইউ, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা এসব দেশের রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে ইইউর সদর দফতরে একটি চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানাবেন।

চিঠিতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির কথা বিবেচনা করেই যাতে নীতিমালা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হয় তা উল্লেখ করা হবে।