১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিজেএসএ চলতি মূলধন ঋণের সুদ মওকুফ চায়


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত স্পিনিং জুট মিল মালিকরা চলতি মূলধন ঋণের সুদ মওকুফ চায়। পাট মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কাছে দেয়া এক চিঠিতে তারা এ সুবিধা চেয়েছে। চিঠিতে দুই কোয়াটারে (জানুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল-জুন) আরোপিত সুদ মওকুফ চেয়েছে তারা।

জুট স্পিনিং মিলি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) পক্ষ থেকে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিদ্যমান অস্থিরতা, অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবরোধ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হরতাল ঘোষণার কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আজ এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে রফতানি বাণিজ্য চরম নাজুক অবস্থায় পতিত হয়েছে। অবরোধ চলার কারণে রফতানি পণ্য পরিবহন অচল হয়ে পরেছে। এ কারণে বিদেশী ক্রেতাগণ হতাশ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পণ্য জাহাজীকরণ সময়মতো না হওয়ার কারণে ক্রেতাগণ বিক্রয় চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিচ্ছে এবং বিকল্প বাজার খুঁজছে। অবরোধের কারণে পাট-সূতাকলের শ্রমিকদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার কারণে পণ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। পাটকলের প্রধানতম কাঁচামাল কাঁচা পাটের পরিবহন সঙ্কটে পাটকলসমূহ তাদের উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘœতার সৃষ্টি হচ্ছে। পাটকলসমূহের এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণে তারল্য সঙ্কট উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঋণের বোঝা এবং এ কারণে সময়মতো পাটকলসমূহ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নানাবিধ অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে জাহাজীকরণের উদ্দেশ্যে পণ্য পরিবহনে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণের অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, এ সমস্ত ক্ষতি পুষিয়ে উঠা পাটকলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাই পাটশিল্পের ক্ষতি ও তারল্য সঙ্কট লাঘবে বিজেএসএ পাটপণ্য রফতানির বিপরীতে আয়কর আইন অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের বর্তমান হার ০.৬০ শতাংশের স্থলে গার্মেন্টস শিল্পের ন্যায় ০.৩০ শতাংশ ধার্য করা, পাটসূতা রফতানির ওপর নগদ সহায়তার বর্তমান হার ৭.৫ শতাংশের স্থলে পূর্বের ন্যায় ১০ শতাংশে নির্ধারণ করা, পাটপণ্য রফতানির ওপর পুঞ্জীভূত বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে পাটশিল্পের চলতি মূলধন ঋণের সুদ ধার্য করার দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে এ্যাসোসিয়েশন আওতাভুক্ত মোট ৯৬টি পাটসূতা কল রয়েছে এবং এ সবই ১০০ শতাংশ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান।