২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইএসের বিরুদ্ধে মিত্রশক্তির সাড়া লজ্জাকর ॥ এ্যামনেস্টি


ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো গ্রুপগুলোর কাছ থেকে বেসামরিক লোকদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং তা লজ্জাকর ও নিষ্ফল বলে প্রমাণ করেছেন তাঁরা। ২০১৪-এর বছরটিকে বিপর্যয়ের বছর বলে অভিহিত করে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার এ কথা বলেছে। সংস্থা গণবর্বরতার এ পরিস্থিতিতে ভেটোশক্তি প্রয়োগ না করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

সংস্থার ৪শ’ ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী বাৎসরিক রিপোর্টে ১শ’ ৬০টি দেশে মানবাধিকার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বেসামরিক লোকদের রক্ষায় দেশগুলোর সরকার মিথ্যে দাবি করেছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থা। রিপোর্টে বলা হয়, সিরিয়া থেকে ইউক্রেন, গাজা থেকে নাইজিরিয়া- বিশাল এলাকায় নিহত হয়েছে লাখ লাখ বেসামরিক লোক এবং গত বছর গৃহচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিহত ও গৃহচ্যুত মানুষের এ সংখ্যা সর্বাধিক। এ্যামনেস্টির মহাসচিব শলিল শেঠী বলেছেন, ২০১৪ সালে সহিংসতার শিকার হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। এটা এক সর্বনাশা বছর। তিনি বলেন, এ সংঘাত সহিংসতার প্রতি বিশ্ব যেমনটা সাড়া দিয়েছে এবং দেশগুলো ও সশস্ত্র গ্রুপগুলো যেমনটা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তা লজ্জাকর ও নিষ্ফল। মানুষ বর্বর হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ক্রমবর্ধমানভাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সঙ্কট মোকাবেলায় সচেষ্ট দেখা যায়নি তেমন। বিপোর্টে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করে বলা হয়- বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এ বছর পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেবে। এ্যামনেস্টি এ ব্যাপারে সমালোচনার জন্য বেছে নিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। শেঠী বলেন, বেসামরিক লোকদের রক্ষায় শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি বলেন, পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক মানুষের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে তাদের রাজনৈতিক নিজস্ব স্বার্থ বা ভৌগোলিক রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তাদের ভেটো অধিকারের অপব্যবহার করছে অবিরত। হত্যাকা- ও গণহত্যা ঘটনায় ভেটো অধিকার প্রয়োগ না করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এ্যামনেস্টি। সংস্থা মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে সহিংস এলাকায় বেসামরিক লোকদের রক্ষায় অধিকতর সুযোগ পাবে জাতিসংঘ।