২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত সম্পাদকরা


বিডিনিউজ ॥ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করছে মর্মে তৈরি একটি বিবৃতি নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপক্ষেভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাহফুজ আনামের বিবৃতির বিষয়বস্তুর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পরিষদের সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলা দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেছেন, তার সঙ্গে কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা না করেই এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে কার সভাপতিত্বে, কোথায় সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সে বিষয়েও কিছু উল্লেখ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরশুদিন আমি জরুরী প্রয়োজনে আমেরিকায় চলে এসেছি। আমি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি। বিবৃতিতে অনেক কড়া কড়া কথা আছে, যা আমার সঙ্গে আলাপ না করেই দেয়া হয়েছে। আমি এই বিবৃতিকে ওন করি না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।’

সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনও কখনও কোন কোন পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেয়া হচ্ছে।

বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরি মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়। ‘সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।’

বিবৃতিটিতে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ইংরেজী দৈনিক নিউএজ পত্রিকার অফিসে তল্লাশির নামে পুলিশী হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।

আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়াও টিভি টকশোতে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশোর অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।

‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।’

‘সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি,’ বলা হয় মাহফুজ আনামের বিবৃতিতে।

বিবৃতিটি পাঠানোর পর গোলাম সারওয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সমকালের ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশ করা হয়। পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

গোলাম সারওয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেক বলেন, ‘বিবৃতির সঙ্গে আমি একমত নই। সে কারণেই আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি সভায় যাইনি। বিবৃতির কন্টেন্টের সঙ্গে আমি একমত নই।’

মাহফুজ আনামের সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনে কল এবং এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি।