১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা


স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেনকে (৬০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাঁচবাড়িয়া সিনজেনটা অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোশাররফ ইছালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কিসমত রাজাপুর গ্রামের মোকাম ম-লের ছেলে। ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকা-ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক। নিহত মোশাররফ হোসেনের স্বজন ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর মোশাররফ হোসেন যশোর শহরের কাঠালতলা বাসা থেকে বের হন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। মোটরসাইকেলযোগে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার সময় যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাঁচবাড়িয়া সিনজেনটা অফিসের সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকা-ের খবর পেয়ে নিহতের স্বজন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল অঙ্গনে ভিড় করে। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হাসপাতালে ছুটে আসেন। জানা গেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন সন্ত্রাসী তাঁকে অনুসরণ করছিল। সিনজেনটা অফিসের সামনে পৌঁছালে একা পেয়ে ফাঁকা রাস্তায় তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায় সদরের রাজাপুরের দিকে।

হাসপাতালে আহাজারি করতে করতে নিহত মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বলেন, তার স্বামীর কোন শত্রু ছিল না। সে সব সময় মানুষের উপকার করেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের সেবা করেছে। সেই মানুষটাকে মেরে ফেললো। সে আর কারো উপকার করতে পারবে না। এই বলে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, মোশারফের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হত্যার কারণ উদ্ঘাটন, হত্যাকারীদের শনাক্ত ও আটকের জন্য ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান শুরু করেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: