২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভাইরাল হেপাটাইটিস রক্ষা করুন নিজেকে ও পরিবারকে অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী


ভাইরাল হেপাটাইটিস অনেক দেশে সমস্যা। আমাদের দেশেও। ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন, দূষিত পানীয় জল, খাদ্য ও টিকা গ্রহণ না করায় উন্নয়শীলদেশগুলোতে এখনও সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ, আর এ জন্য সে সব দেশে এ রোগ বড় স্বাস্থ্য সমস্যা, সামাজিক সমস্যা বললেও অত্যুক্তি হবে না। ভূগর্ভের পানীয়জলের পাইপ ও পয়ঃনিষ্কাশন নল যদি থাকে পাশাপাশি, কোনটি দীর্ণ হয়ে যদি দুটো নলের মধ্যে সংযোগ ঘটে যায় তাহলে মল দূষিত হয়। এ জল লোকে পান করলে হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, কলেরা এসব রোগ হয়। ভেজাল খাদ্য, দূষিত পানীয়জল, নোংরা হাত দিয়ে খাবার ধরে, কচলিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করলে এবং সে খাদ্য খেলে অসুখ হবেই। জেনেও অনেকে তা খাচ্ছে, পান করছে। আইন করে কত হবে? আমরা নিজেরা এসব বর্জন না করলে, সচেতন না হলে সুফল আসবে না।লোকে জেনেশুনে বিষপান করে আর এ জন্য বড় ভোগান্তি।

কিছু পদক্ষেপ তো নেয়াই যায়

১। ডাক্তারকে বলুন টিকার জন্য। হেপাটাইটিস এ ও বি’র বিরুদ্ধে টিকা বেশ কার্যকর। হেপাটাইটিস সি’র টিকা এখনও বের হয়নি।

২। হাত ধোয়াকে করুন একটি অগ্রাধিকার

টয়লেট, স্নানঘর ব্যবহারের পর, ডায়াপার বদলানোর পর পরিবারের সবাই ভাল করে সাবান-জল দিয়ে হাত ধোবেন। খাবার আগে বা খাদ্য প্রস্তুত করার আগেও ভাল করে হাত ধোবেন। সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোয়া সর্বোত্তম; তবে এলকোহলবেস্্ড স্যানিটাইজারও বেশ কার্যকর।

৩। অন্যান্য ব্যক্তির রক্ত নেয়ার সময় সতর্কতা

কারও হেপাটাইটিস আছে কিনা তা সহসা বলা যায় না। অনেকেরই লক্ষণ-উপসর্গ থাকে না। তাই ব্লাড স্ক্রিনিং করে ট্রান্সফিউশন করা বা নেয়া ঠিক নয়।

৪। সুচ ও সিরিঞ্জের ব্যাপারে সাবধান

হাইপোডার্মিক নিড্্ল, সেলুনে রেজার ব্লেড ও উল্কিও ফুটো করার যন্ত্রের মাধ্যমে অর্থাৎ এগুলো দূষিত থাকলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই ডিসপোজেবল সুচ বা যন্ত্রপাতি ছাড়া এসব গ্রহণ করবেন না রক্ত দেয়া-নেয়া ও উল্কি কাটা, দাড়ি শেভের জন্য।

৫। কখন শেয়ার করতে হবে এবং কখন না

টুথব্রাশ, রেজার ব্লেড, নেল ফাইল ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস শেয়ার করা কখনই নিরাপদ নয়। এসব জিনিসের মধ্যে সুচও থাকে। এতে থাকতে পারে ব্যবহারকারীর রক্ত, যদি তার হেপাটাইটিস থাকে, তা হলে একে ব্যবহার করলে সংক্রমণ ঘটবে।

যাদের হেপাটাইটিস বি, সি; এদের কখনও রক্ত বা দেহযন্ত্র দান করা ঠিক নয়।

৬। নিরাপদ যৌন মিলন

যৌন সংস্পর্শে সম্প্রচার ঘটে তিন ধরনের প্রধান হেপাটাইটিস। তাই কেবল জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলন করা, প্রয়োজনে লেটেস্ট কনডম ব্যবহার। নিরাপদ যৌন মিলন হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ রোধের বড় উপায়।

৭। কি খাচ্ছেন, কি পান করছেন

খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও সংক্রমিত হাত দিয়ে প্রস্তুত করা খাদ্য খেলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।

ভেজাল খাদ্য ও নলের পানি পান খুবই বিপজ্জনক। ঘরে রান্না করা খাবার নিরাপদ। ফোটানো জল নিরাপদ। তাজা ফল, সবজি, স্যান্ডউইচ, সালাড ও অন্যান্য রান্না না করা খাদ্য, রান্না খাবারের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যেসব মাছÑ শেলফিশ, চিংড়ি, ঝিনুক সংক্রমিত জলাধার থেকে সংগ্রহ করা তাই এগুলো খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আইস কিউর জলে মেশানো সব সময় নিরাপদ নয়।

৮। জানুন পরিবারের ইতিহাস

ভাইরাস হেপাটাইটিস বেশি রয়েছে সাবসাহারান আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আমাজানবেসিন ও এশিয়ার লোকদের। তাই সবার হেপাটাইটিস চেক করা উচিত। পরিবারে কারও হেপাটাইটিস হলে অন্যদের স্ক্রিন করা এবং টিকা নেয়া জরুরী।

লেখক : পরিচালক, ল্যাবরেটরিজ বারডেম, ঢাকা