১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রাশিয়ার অভিলাষে ॥ বিপন্ন ন্যাটোর অস্তিত্ব


রাশিয়ার সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনা সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। আর দেশটির সম্প্রসারণবাদী অভিলাষ ন্যাটোর সমগ্র অস্তিত্বের প্রতি স্পষ্টত এক হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। ন্যাটোস্থ ব্রিটেনের শীর্ষ জেনারেল এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, রুশ নেতা ভøাদিমির পুতিন ন্যাটোর ভূখ- আক্রমণ ও অধিকার করতে তার সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারেন। কারণ পশ্চিমা সামরিক জোট সংহিসতা বাড়িয়ে তুলতে এতই ভীত হবে যে, পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারবে না। খবর টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান অনলাইনের।

ওই জেনারেল স্যার এ্যাড্রিয়ান ব্র্যাডশ বলেন, জোটের পক্ষে দ্রুত কার্যক্ষম প্রচলিত বাহিনী এবং রাশিয়ার প্রচারণা মোকাবেলার সামর্থ্য উভয়েরই উন্নতি সাধন করা প্রয়োজন। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এটিই দেখা গেছে। ব্র্যাডশ ইউরোপে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার। তিনি বলেন, ন্যাটোকে এর পূর্ব সীমান্তে আক্রমণ নিবৃত্ত করার মতো সামরিক শক্তি সর্বদাই বজায় রাখতে হবে। এ জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার প্রয়োজন হবে। তিনি জানান যে, ন্যাটো সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রস্তুত থাকবে এমন এক যৌথ টাস্কফোর্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য রাশিয়া বা অন্য যে কোন বৈরী রাষ্ট্রকে এ কথা বোঝানো যে, ন্যাটোর কোন সদস্যের ওপর হামলা তাদের অনিবার্যভাবেই সমগ্র জোটের সঙ্গে এক সংঘাতে জড়িত করবে।

ব্র্যাডশের ওইসব মন্তব্যের আগে লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে এক বাকযুদ্ধ হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেন, নাশকতা ও অনিয়মিত যুদ্ধ চালিয়ে পুতিন বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন বলে এখন এক বাস্তব বিপদ রয়েছে। ক্রেমলিন ফ্যালনের মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণভাবেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। স্যার এ্যাড্রিয়ান রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটে একদল শ্রোতার উদ্দেশে বলেন, এরূপ গুপ্ত হামলা ন্যাটোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অচল করে দিতে পারে বলে বিপদ রয়েছে। কারণ, এসব হামলার জন্য রাশিয়া কতখানি দায়ী এবং কিরূপ পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নিয়ে জোট-সদস্যের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। রাশিয়া ছদ্ম ও অনিয়মিত সামাজিক তৎপরতা চালাবে বলে ন্যাটো কমান্ডারদের আশঙ্কা। এসব হামলার ছক খুবই সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হবে, যাতে জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কার্যকরী করার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

তিনি বলেন, এর ফলে যে অস্পষ্টতা দেখা দেবে, তাতে উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা সম্পর্কে যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

কিন্তু স্যার এ্যাড্রিয়ান আরও এগিয়ে গিয়ে এ কথা বলেন যে, রাশিয়া ন্যাটো দেশগুলোর ভূখ- দখল করতে প্রচলিত বাহিনীকে কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়া যে এর সীমান্ত বরাবার আকস্মিক মহড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নোটিসে বিশাল প্রচলিত বাহিনীর সমাবেশ ঘটাতে পারে, তা সে গত বছর দেখিয়ে ছিল। এ বাহিনীকে কেবল ভীতি প্রদর্শন ও জোরজবরদস্তির জন্যই নয়, সম্ভব হলে ন্যাটোর কোন ভূখ- দখল করার জন্যও কাজে লাগানো হতে পারে। এরপর সেই ভূখ-ের পুনরেকত্রীকরণ রোধ করতে রাশিয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি দিতে পারে। রাশিয়া পূর্ব ইউরোপে আগ্রাসর চালালে ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে মোতায়েন হতে প্রস্তুত থাকবে এমন ৫,০০০ সৈন্যের এক দ্রুত কার্যক্ষম বাহিনী গঠন করতে ন্যাটো ইতোপূর্বে সম্মত হয়। তাদের রসদ, যন্ত্রপাতি ও গোলাবারুদ ওই অঞ্চলের ঘাঁটিগুলোতে মজুদ করা হবে। এ বাহিনী রাশিয়ার যে কোন হামলা নিবৃত্ত করবে বলে জোট নেতাদের আশা।

যদি ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতি টিকে না থাকে, তা হলে রাশিয়াকে আরও নিষেধাজ্ঞা ও পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভøাদিমির পুতিনকে এর আগে সতর্ক করে দেন।

পাশ্চাত্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়তার পরিচয় দেবে এবং মস্কোর ওপর দীর্ঘ মেয়াদের জন্য চাপ বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

শুক্রবার পুতিন বলেন, রাশিয়া কখনই বিদেশী চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। তিনি বলেন, কাউকেই রাশিয়ার ওপর সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে দেবেন না।