২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভাষাসংগ্রামী ওয়াজেদ মাস্টার এখন নির্বাক


নানান রোগ ব্যাধিতে বাকরুদ্ধ মানিকগঞ্জের ভাষাসৈনিক ওয়াজেদ আলী মাস্টার। বয়সের ভারে আর চলাফেরা করতে পারেন না। মানিকগঞ্জে তিনি ভাষাসৈনিক হিসেবে পরিচিত হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন স্বীকৃতি পাননি। তার সহযোদ্ধা আর পরিবারের দাবি মৃত্যুর আগে যেন সেই স্বীকৃতি পান ওয়াজেদ আলী মাস্টার। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ১৯৪৯ সালে মিছিল ও মিটিং করায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মানিকগঞ্জের তেরশ্রী কেএন ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণীর ছাত্র ওয়াজেদ আলী। তার সঙ্গে ছিল আরও তিন স্কুলছাত্র। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল তাদের। এক মাস জেল খাটার পর হাজত থেকে বের হয়ে তারা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জড়িত হন। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও আজো তারা সরকারী স্বীকৃতি পাননি।

ওয়াজেদ মাস্টারের পুত্রবধূ সাইদা বেগম জানালেন তাঁর শ্বশুরের বর্তমান বয়স ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিকসহ নানা রোগে ভুগছেন তিনি। এক বছরেরও বেশি সময় থেকে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। এখন একেবারেই বিছানায় পড়ে গেছেন। কথা বলতে পারেন না। কারও সাহায্য ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। যদি একটা ভাল হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নেয়া যেত তা হলে হয়ত শেষ বয়সে একটু কস্ট কম হতো। ওয়াজেদ মাস্টারের বড় ছেলে এমদাদুল হক জানান, ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে পেরে তার বাবা সব সময়ই গর্ব করতেন। এমদাদুল হক একটু আক্ষেপ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন অনেককে ভাষাসৈনিকের মর্যাদা দেয়া হয়, যাঁরা তাঁর বাবার মতো প্রত্যক্ষভাবে ভাষার আন্দোলনে অংশ নেননি, জেলও খাটেননি। তিনি বলেন, ভাষাসৈনিকের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও কোন রাজনৈতিক দল না করায় তার বাবাকে এই মর্যাদা দেয়া হচ্ছে না।

-গোলাম ছারোয়ার ছানু

মানিকগঞ্জ থেকে