২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জামালপুরে প্রথম শহীদ মিনারের অস্তিত্ব বিপন্ন


আজিজুর রহমান ডল, জামালপুর থেকে ॥ ভাষা সংগ্রামের স্মৃতি এখনও ঝলমলে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ভাষাসৈনিক আবদুল ওয়াহাব মিয়ার মনে। বায়ান্নর আগুন ঝরা দিনগুলোয় ভাষা সংগ্রামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছি তৎকালীন মহকুমা শহর জামালপুরেও। ভাষার দাবিতে মিছিল-মিটিং করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন অনেকে। আর ছোট্ট এই মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন যাঁরা তাঁদের অন্যতম ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্রকর্মী আবদুল ওয়াহাব মিয়া। অসুস্থ ওয়াহাব মিয়া বর্তমানে ঘর থেকে বেরোন না খুব একটা। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে এই ভাষাসৈনিক জানিয়েছেন আগুন ঝরা সেই দিনগুলোর কথা।

মিছিল, মিটিং ধর্মঘটে উত্তাল ছিল সেদিনের জামালপুর। ১৯৫১ সালের শুরুতেই তৈয়ব আলী আহমেদকে সভাপতি করে জামালপুর মহকুমায় গঠিত হয়েছিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আর আক্তারুজ্জামান মতিকে আহ্বায়ক করে পরবর্তীতে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ভাষা সংগ্রামের সূচনা থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ভাষার দাবিতে মিছিল, মিটিং, ধর্মঘট, হরতাল, সমাবেশে মুখর ছিল গোটা জামালপুর। ঢাকায় গুলির প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি ‘রক্তের বদলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, নুরুল আমিনের কল্লা চাই’ সেøাগানে ফেটে পড়ে জামালপুরের ভাষা সংগ্রামী ছাত্র-জনতা। ঢাকায় গুলির প্রতিবাদে পালিত হয় পূর্ণ দিবস হরতাল। রাতেই গ্রেফতার করা হয় ভাষাসৈনিক আক্তারুজ্জামান মতিসহ ৮ ভাষাসৈনিককে। সূচনা থেকে ৩ মার্চজুড়ে বিশাল বিশাল সমাবেশ হয় হিন্দু বোর্ডিং মাঠ, গোপাল দত্তের মাঠ আর রেলওয়ে ময়দানে।

প্রশাসনের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জামালপুরে প্রথম শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় আশেক মাহমুদ কলেজ পুকুর পাড়ে ১৯৬৩ সালে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী এই শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি গোপালদত্তের মাঠ হারিয়ে গেছে বাড়ি-ঘরের আড়ালে, হিন্দু বোর্ডিং মাঠ এখন জামালপুর হাইস্কুল মাঠ। আর প্রথম শহীদ মিনারের অস্তিত্ব বিপন্ন, এমন অবস্থা ভীষণ কষ্ট দেয় যাঁরা লড়েছেন মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায়।

জামালপুরের ভাষা আন্দোলনের যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। আর যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁদের সকলেই সর্বস্তরে রাষ্ট্রভাষা চালু হোকÑ এমন প্রত্যাশার পাশাপাশি দাবি জানিয়েছেন প্রথম শহীদ মিনারটি সংস্কারের।