২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইরানপন্থী মিলিশিয়ারা ইরাকে আইএসবিরোধী যুদ্ধে এগিয়ে


ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকের লড়াইয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তারা ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, ইরাকী সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন এবং দেশের অসন্তুষ্ট সুন্নী সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আপোস মীমাংসার উদ্দেশে গৃহীত মার্কিন রণকৌশলকে দুর্বল করে দেয়ার হুমকি সৃষ্টি করছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

আনুমানিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার সশস্ত্র সদস্যের মিলিশিয়া দ্রুত নিঃশেষিত ও মনোবল ভেঙ্গে পড়া ইরাকী সেনাবাহিনীকে গ্রাস করে ফেলছে। গত গ্রীষ্মে উত্তরাঞ্চলীয় নগরী মসুল থেকে সরকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার পর থেকে ইরাকের লড়াইয়ের শক্তিসম্পন্ন সেনাসংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজারে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন ও ইরাকী কর্মকর্তারা একথা জানান। দিয়ালা প্রদেশে বদর সংগঠনের নেতৃত্বে পরিচালিত আইএস জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযান দক্ষিণ ইরাক থেকে উত্তরের কিরকুক পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখ-ে প্রবল সামরিক শক্তি হিসেবে মিলিশিয়াদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বৃহত্তর ভূমিকা নেয়ার পাশাপাশি মিলিশিয়ারা কখনও কখনও এমন রণকৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে যা সুন্নীদের আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এবং লড়াইয়ের সাম্প্রদায়িক মাত্রাকে আরও তিক্ত করে তোলে। এর মাধ্যমে মিলিশিয়ারা অনেকভাবে ইরাকের ওপর ইতোমধ্যে ইরানের যথেষ্ট প্রভাব বলয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। ইরানের সমর্থনে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অস্ত্রসজ্জিত ও অর্থপুষ্ট হয়ে মিলিশিয়ারা খোলাখুলিভাবে তেহরানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। আসাইব আহল আল হক এবং কিতায়ের হেজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী অনেক গোষ্ঠী ২০১১-এর ইরাক ত্যাগের পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আমেরিকান সৈন্যদের দেশ ছাড়া করার লড়াইয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

ইরাক কতদূর ইরানের কক্ষপথে চলে গেছে তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে মিলিশিয়াদের শৌর্যবীর্য তুলে ধরে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী ও তাঁর উত্তরসূরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর প্রতিকৃতি সংবলিত বৃহদাকার বিলবোর্ডগুলো এখন বাগদাদের কেন্দ্রস্থলকে আংশিকভাবে ঢেকে ফেলেছে যেখানে আগে সাদ্দাম হোসেনের মূর্তি শোভা পেত ২০০৩-এ মার্কিন মেরিন সেনারা যা ভেঙ্গে দেয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির মাইকেল নাইটস বলেন, এই গতিপথে লড়াই অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আইএসকে পরাস্ত করতে পারবে তবে এই প্রক্রিয়ায় ইরাককে হারাতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিলিশিয়াদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের এই রণকৌশল বজায় রাখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে যেখানে মার্কিন জঙ্গী বিমানগুলো আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করছে- স্থলভাগে এমন গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতা সুদৃঢ় করার কাজ এগিয়ে নিতে ইরান যাদের সমর্থন করছে এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন।