২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেবেন অমর্ত্য সেন


নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পদে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদি সরকার তার মনোনয়নে সম্মতি দেয়নি। খবর হিন্দু ও এনজিটিভি অনলাইনের।

ড. সেন বলেন, আমার পক্ষে এ সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়া কঠিন যে, সরকার চায় আমি যেন এ জুলাইয়ের পর আর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর না থাকি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবর্নিং বোর্ডের সদস্যদের কাছে বৃহস্পতিবার লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, গবর্নিং বোর্ড জানুয়ারি মাসে তাকে চ্যান্সেলর পদে নির্বাচিত করতে সর্বসম্মত ভোট দিলেও তিনি ঐ পদে দ্বিতীয়বারের মতো আসীন না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি আরেক মেয়াদের জন্য চ্যান্সেলর হবেন বলে সর্বসম্মত এক প্রস্তাব সত্ত্বেও ভিজিটর হিসেবে রাষ্ট্রপতি এতে তার সম্মতি দিতে পারেননি।

ড. সেন বলেন, দেশের শিক্ষা প্রশাসন ক্ষমতাসীন সরকারের মতামতের কাছে খুবই অসহায় হয়ে রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্ট্যাটিউটের বিশেষ বিধানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করে থাকে। অমর্ত্য সেন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হবেন বলে বোর্ড সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু সরকারের অনুমোদন না থাকায় রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবটিতে তার সম্মতি দিতে অসমর্থ হন। ড. সেন লিখেছেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেউই জবাব না দেয়ায় তিনি জুলাইয়ের পর ঐ পদে আর বহাল না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেহেতু বোর্ড কয়েকটি এশীয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডের সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠাতে হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতি ভবন উভয়ের এক মাসের নীরবতার পর সেন ‘সরকার আর আমাকে চ্যান্সেলর হিসেবে চায় না বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।’ ড. সেন বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সর্বদাই গভীর উৎসাহ দিয়েছেন। কোন কিছু এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া তার জন্য কঠিন বা অসম্ভব করে তুলেছিল বলে মনে করা যেতে পারে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে প্রচার অভিযান চলাকালে ড. অমর্ত্য সেন নরেন্দ্র মোদির সমালোচক ছিলেন। সর্বশেষ এ বিতর্ক দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিতে পারে।