২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নওয়াজউদ্দিন আসছে বদলাপুর নিয়ে


বলিউড

নেই খানদের মতো পেশীবহুল শরীর। রয়েছে গ্ল্যামারের অভাবও। বড় পর্দায় উপস্থিতি তাদের অনেক পরে হলেও, তাও প্রায় ১৬ বছর হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘদিন অভিনয় করেছেন অপ্রধান চরিত্রে। নিজেকে প্রথম ভিন্নরূপে মেলে ধরেন ‘কাহানি’ ছবির ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ‘খান’ হিসেবে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই, শুধুই সামনে এগিয়ে চলা...। গ্যাংস অফ ওয়াসিপুরের ‘ফায়জাল খান’ চরিত্র দিয়ে বলিউডে আসন গেড়ে বসলেন পাকাপাকিভাবে। এতক্ষণ যার কথা হচ্ছিল তিনি আর কেউ নন, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। ইরফান খানের পর একমাত্র অভিনেতা যিনি চরিত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে জীবন্ত করে তোলেন গল্পকে।

‘কাহানি’ ছবির আগে নওয়াজের রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। দিল্লী ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষে থিয়েটারে পড়া শেষ করেই এককালে বেকার সময় কাটছিল নওয়াজের। কিন্তু দিল্লীতে থিয়েটার করে ঠিক পোষাচ্ছিল না তার। ফলে মুম্বাই যাত্রা। উদ্দেশ্য টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে যদি কিছু একটা করা যায়। সেখান থেকেই একপর্যায়ে ফিল্মে কাজ শুরু। তবে শুরুর দিকে তার মূল্যায়ন হয়নি সেভাবে। তাকে পর্দায় দেখা যেতো কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ডের জন্য। নিজেকে প্রত্যাখ্যাত অভিনেতাই ভাবতেন তিনি। ফলে নিজেকে আরও শাণিত করার সংগ্রামটা ছিল ভেতরে ভেতরে সব সময়ই। নওয়াজের ভাষায় গত কয়েক বছরে বলিউডে কিছু প্রতিশ্রুতিশীল পরিচালক কাজ শুরু করেছেন যারা ফিল্মের ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে কাজ করছেন। ফলে অনেকেই, যারা কিনা আগে সিরিয়াস ছিলেন না নিজেদের অভিনয় সত্তার ব্যাপারে তারাও এগিয়ে আসছেন নিজেদের মেলে ধরতে। নিজেকে এমনই এক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করছেন তিনি।

উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার বুদানা গ্রামে এখনো থিয়েটার নেই। পরিবারের কেউ যদি তার সিনেমা দেখতে চায় তাহলে জেলা শহর মুজাফফরনগরে আসতে হয়। এমনই এক এলাকা অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজন প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিলেও এখন বেশ গর্বই বোধ করেন তাকে নিয়ে। তবে সংগ্রামের কষ্টের দিনগুলোতে কখনও যে ফিরে যেতে ইচ্ছা করেনি তা নয়। তবে বন্ধুদের কটূক্তি কিভাবে সামলাবেন সেই ভেবে থেকে গিয়েছিলেন মাটি কামড়ে। ফলাফল বলিউডবাসী দেরিতে হলেও দেখেছে। প্রথম দিকে ফিল্মে সুযোগ হারাতে হারাতে হতাশ হওয়া নওয়াজ বলছেন, ‘হ্যাঁ, সাফল্য দেরিতে হলেও এসেছে। যদি এ সাফল্য আরও ৫ বছর আগে আসতো তাহলে তা হয়তো। ভাল হত কিন্তু আমি হয়তো নিজেকে এতোটা শাণিত করতে পারতাম না, সুতরাং এটা এক অর্থে মঙ্গলজনক’।

নিজের তারকাখ্যাতি কিভাবে সামাল দেন সে সম্পর্কে নওয়াজ বলেন, আমি সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী...। ট্রাডিশনাল বলিউড হিরোদের মতো নয় বরং হালকা পাতলা গড়ন আমার। আমি খুব সহজেই চলাফেরা করতে পারি অনেক ভিড়ের মাঝেও। যদিও বা কেউ টের পেয়ে যায় তার আগেই আমি হাওয়া।

২০১৫ তে নওয়াজের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাওয়া ক্রাইম থ্রিলার ছবি ‘বদলাপুর’ দিয়ে যেখানে তার সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করছে আরেক প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। সঙ্গে রয়েছে আরও চার ললনা হুমা কুরেশি, ইয়ামি গৌতম, দিব্যা দত্ত ও রাধিকা আপ্তে। ‘বদলাপুর’ প্রতিশোধের গল্প। স্ত্রী পুত্রের হত্যাকারীকে খুঁজে ফেরার গল্প। এ ছবিতে চমক হিসেবে থাকছে বরুণের পর্দায় বিশেষ লুকে উপস্থিতি। বিশেষ করে করণ জোহরের ‘ স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে কাজ শুরু করা বরুণের ‘চকলেট বয়’ ইমেজ থেকে বের হয়ে কাঠিন্যে ভরা রাফ এ্যান্ড টাফ লুকে দর্শকের সামনে হাজির হওয়া। তবে বলিউডপ্রেমীরা এই পরিবর্তনকে পজিটিভভাবেই নিয়েছেন, অন্তত সিনেমাটিকে ঘিরে তাদের উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা, সে আভাসই দিচ্ছে। আর শচীন-জিগার জুটির অসাধরণ মিউজিক ইতোমধ্যে সাড়া জাগিয়ে ফেলেছে। এই ধরনের ক্রাইম থ্রিলার ছবি বানিয়ে ইতোমধ্যেই খ্যাতি অর্জন করেছেন পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন। সুতরাং বলিউড এখন নওয়াজ আর বরুণের বদলাপুরের দিকে তাকিয়ে।