১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যারা নাশকতায় অর্থ ও মদদ দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা গেছে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্দোলনের নামে যারা নাশকতায় অর্থ ও মদদ দিচ্ছে, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন এ্যাকশনের পালা। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের তথ্যই প্রকাশ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক। বুধবার র‌্যাব সদর দফতর পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, চিহ্নিতদের মধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে কারা মদদ দিচ্ছে আর এদের মধ্যে কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে- সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে গ্রেফতার করা হবে কিনা- জানতে চাইলে পুলিশপ্রধান বলেন, মামলাগুলো যাঁরা তদন্ত করছেন তাঁরাই এ বিষয়ে বলতে পারবেন। কাউকে তাঁরা গ্রেফতারের জন্য যদি প্রয়োজনীয় তথ্য পায় এবং গ্রেফতার করতে চান তাহলে তাঁরা আমাদের সহযোগিতা চাইলে পাবেন। এ সব মামলার তদন্তকারীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে মন্তব্য করে শহীদুল হক বলেন, ফৌজদারি অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকা- করে জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

হরতাল-অবরোধে নাশকতা দমনের সময় বাস থেকে নামিয়ে নিরীহ যাত্রীকে গুলি করার কয়েকটি অভিযোগ সম্পর্কে জনকণ্ঠের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে একেএম শহীদুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জবাবদিহিতার উর্ধে নয়। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোথায় ঘটেছে এ ঘটনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কেউ দোষী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হিযবুত তাহরির বাংলাদেশের জন্য কোন হুমকি নয় জানিয়ে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। তারা কোনভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খানসহ র‌্যাবের সব ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। সাংবাদিক সম্মেলনের আগে আইজিপি র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এ সময় আইজিপি র‌্যাব কর্মকর্তাদের আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বিএনপি জোটের টানা অবরোধ ও হরতালে পেট্রোলবোমা ও হাতবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ নিহত ও ৫৫৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৬৬৪টি যানবাহন পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ৪১০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে অবরোধ সমর্থকরা। এছাড়া রেলপথে নাশকতার ২৫টি ও নৌপথে ছয়টি ঘটনা ঘটে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগকারী, বোমাবাজ ও মদদদাতাদের ধরিয়ে দিতে গত মাসেই আলাদাভাবে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার, পুলিশ, র‌্যাব ও রেল কর্তৃপক্ষ। সারাদেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে, যার মধ্যে চারটিতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে করা হয়েছে হুকুমের আসামি। এ সব মামলার তদন্তও চলছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: