২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিরাজগঞ্জে বেসরকারী স্বাস্থ্য খাতের বিস্ময়কর চালচিত্র


বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ গর্ভবতী মহিলা কমলা খাতুন গত ৩১ ডিসেম্বর তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল গোলচত্বরে স্থাপিত আল মদিনা নামের বেসরকারী একটি জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন। সেখানে কর্মরত ডাক্তার রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে ১৮ জানুয়ারি সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ এবং পেটের বাচ্চা সুস্থ ও ভাল আছে জানিয়ে দেন। এর ক’দিন পর ৫ জানুয়ারি কমলা খাতুন প্রসব ব্যথা নিয়ে একই হাসপাতালে আবার আসেন। আগের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও আবারো তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন কর্মরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল জলিল। রিপোর্টে পেটের বাচ্চা প্রিম্যাচিউর এবং সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি বলে উল্লেখ করা হয়। তবে যেহেতু প্রসব ব্যথা উঠেছে সেক্ষেত্রে দ্রুত তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করা দরকার এবং প্রিম্যাচিউর সন্তানকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। এজন্য জেলা শহর থেকে ইনকিউবেটর আনা বাবদ খরচ চার হাজার টাকা, সিজারিয়ান খরচ ১২ হাজার টাকা ছাড়াও ওষুধ পথ্য সবই রোগীর বহন করতে হবে। অর্থাৎ প্রায় কুড়ি হাজার টাকা খরচের একটি হিসাব তাঁর হাতে ধরিযে দেয়া হয়।

গ্রামের দরিদ্র পরিবারের কাছে ডেলিভারি খরচের হিসাব মিলাতে গিয়ে চিন্তায় যখন শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছিলো তখন সন্তান সম্ভাব্য মায়ের প্রসব ব্যথার চিৎকার এবং ক্ষতির কথা ভেবে রোগীর অভিভাবক সেই হাসপাতালের পাশের জে এস নামের বেসরকারী ক্লিনিকে মাত্র ৬ হাজার টাকায় রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন করান। দেখা গেল সন্তানও হয়েছে প্রত্যাশিত ওজনের এবং সুস্থ। মা সন্তান সুস্থ অবস্থায় একদিন পরেই বাড়ি চলে যায়। তাহলে আগে যে হাসপাতালে রোগী আনা হয়েছিল সেই আল মদিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতারণা এবং ডাক্তারের এমন আচরণ কেন? কেন একই রোগীর দুইবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করে অর্থ আদায় করা হলো এমন অভিযোগ এনে সিভিল সার্জনের কাছে উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার তেলকুপি গ্রামের রোগীর বাবা আব্দুল কুদ্দস লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টের একটি সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। এ থেকে সিরাজগঞ্জের বেসরকারী পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবার চিত্র ফুটে উঠেছে।

শুধু তাই নয় ডাঃ আব্দুল জলিল বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে চাকরিরত অবস্থায় ৭০ কিমি দূরে সিরাজগঞ্জ রোড গোলচত্বরের বেসরকারী ক্লিনিকে সপ্তাহব্যাপী অবস্থান করে কিভাবে চিকিৎসাবিদ্যায় তার এখতিয়ার বহির্ভূত গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকেন এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে।