২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

উত্তরাঞ্চলে পানিশূন্যতা


উত্তরাঞ্চলের পানিশূন্যতার বিষয়টি ওই এলাকার কৃষিক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে কৃষিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। একই আশঙ্কা পরিবেশবিদদেরও। কৃষিক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি ঐ এলাকার কৃষকরাও পড়বে পেশার সঙ্কটে। শুধু তাই নয়, কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

শনিবার জনকণ্ঠে ‘চাঁপাইয়ে নদী জলাশয় পানিশূন্য’ শীর্ষক এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা, পাগলাসহ ছোট-বড় মিলিয়ে জেলার প্রায় ৩৮ বিল ও জলাশয় পানিশূন্য হয়ে পড়াতে বোরো চাষীরা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। বিল ও জলাশয়গুলোতে পানিশূন্যতার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় চাঁপাইয়ের আমবাগানগুলোর উৎপাদনও অনেকাংশে কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদি জমিসহ বসতবাড়ির নিত্যনৈমিত্তিক কাজকর্ম সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পানির যোগান দিতে পারছে না ভূগর্ভস্থ পানি। জলবায়ুর পরিবর্তনের ধাক্কা এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের অনেক অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি নেমে যাওয়ার কারণে কৃষিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উৎপাদিত ফসলের জন্য বিশেষ করে সেচ কাজে প্রয়োজনীয় পানির যোগান দিতে পারছে না ভূগর্ভস্থ পানি। এর ফলে কৃষককে বাধ্য হয়ে জমির উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অধিক মূল্যে ডিজেল কিনে সেচযন্ত্র চালাতে হয়Ñ এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। উৎপাদন ব্যয় তুলে আনতে না পারার কারণে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। বিল, জলাশয়ের পানিশূন্যতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার পাশাপাশি সংকটের সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। লাগাতার হরতাল-অবরোধ ও পেট্রোলবোমার আতঙ্কে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যথাসময়ে পাঠাতে পারছে না। শাকসবজিসহ কৃষিপণ্য দ্রুত পচনশীল হওয়ায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮০ মাইল দীর্ঘ মহানন্দা নদী ৩৭ মাইলই জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়িতে পদ্মায় পড়েছে। হিমালয়ের পাদদেশে এই নদীর উৎপত্তির কারণে এর বিরাট অংশ উজানের ভিন্ন দেশে পড়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উজানের একাধিক স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ অংশে পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মহানন্দার পানির ওপর নির্ভর করছে জেলার প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ। উজানের বাঁধের কারণে মহানন্দার ১৪টি সেচ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।

উত্তরাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় এবার এ অঞ্চলের আমচাষীরা বিপাকে পড়েছে। মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বড় বড় আমগাছের শিকড় প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে মৌসুমের শুরুতে মুকুল আসার পূর্ব মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করে ডালপালায় ছড়িয়ে দিতে না পারলে মুকুল বা বোল ফুটছে না। আমচাষীরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছবে না।

উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানিশূন্যতা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বোরো ও আমের উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কম পানিতে চাষ করা যায় এসব বিকল্প কৃষিপণ্য চাষ তথা কীভাবে নদী ও বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। ঐ অঞ্চলের মরুকরণ প্রক্রিয়া রোধে এ ধরণের উদ্যোগ নেয়া সময়ের দাবী।