২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চট্টগ্রামে নাশকতাকারী গ্রেফতারে পুলিশের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ


মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ এবার চট্টগ্রামে নাশকতা ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতপন্থী পুলিশের স্বজনরা! পুলিশের ভাই, ছেলে ও আত্মীয়স্বজনরাই গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শনিবার গভীর রাতে খুলশী থানা ও আকবর শাহ থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটলেও গ্রেফতার শূন্যের কোটায়। নগরব্যাপী অভিযানে থাকা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনাও সম্প্রতি ঘটিয়েছে পুলিশের সন্তান। আবার পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশের ছেলে গ্রেফতার হলেও এফআইআরে তাকে রক্ষায় দুর্বল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে হালিশহর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। নাশকতাকারীদের ধরেও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, নগরীর স্পর্শকাতর স্থানগুলো ৭৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছে না পুলিশ। বন্ধ রয়েছে কয়েকটি এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রশ্ন উঠেছে কেন এসব ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে, জেলা পুলিশের অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে শনিবার রাতে। সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ষোলটি থানা এলাকায় ৮শ’র বেশি নাশকতাকারীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু অভিযান সফল হচ্ছে না। সোর্সদের তথ্য পাচারের কারণে সন্ত্রাসীরা গা-ঢাকা দিচ্ছে। এসব সোর্স ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী হিসেবে বিবেচিত। হামলাকারীদের গ্রেফতারে গেলেই শূন্য হাতে ফিরে আসছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগ নামধারী বিভিন্ন থানা এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরাই জামায়াত-বিএনপির পেট্রোলবোমাবাজদের সহায়তা করছে। ফলে পুলিশের তালিকাভুক্ত নাশকতাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আবার যেসব নাশকতাকারী ছাত্রলীগ নামধারী থানা ভিত্তিক সোর্সদের অর্থের যোগান দিচ্ছে না তাদের পাকড়াও করতে পুলিশকে তথ্য দিচ্ছে। সম্প্রতি খুলশী থানা এলাকায় এক বোমাবাজকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি হালিশহর আবাসিক এলাকায় কে ব্লক মসজিদের পাশে শিবিরের কর্মী পারভেজ, আশরাফ, পিয়াস পুলিশের ওপর বোমা হামলা করে। তার বাবা আবুল কালাম আজাদ পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখায় একজন এসআই। পিয়াস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ২০১৩ সালেও সে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ২০১৪ সালের ১৪ নবেম্বর জামায়াতের ডাকা হরতালে ওই এলাকায় পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছে এই পিয়াস। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সহজেই পুলিশের দুর্বল রিপোর্টের কারণে সে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে হালিশহরে শিবিরের মিছিলগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছে এ পিয়াস। পুলিশের কাছে এ ধরনের ভিডিও চিত্র থাকলেও গ্রেফতার হয়নি পুলিশের ছেলে হওয়ার কারণে।

এ ব্যাপারে সিএমপির এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, পুলিশ রাজনীতির বিষয়টি কখনই সরাসরি স্বীকার করে না। তবে আচরণে অনুমিত হওয়া যায় কোন পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা কোন রাজনীতির অনুসারী। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করা খুবই সহজ। কিন্তু সোর্সের কারণে অনেক সময় অভিযান ভেস্তে যায়। তবে সোর্সরা পুলিশেরই সৃষ্টি। এক পুলিশের সোর্স অন্য পুলিশের বিপরীতে কাজ করে। ফলে এক কর্মকর্তার অভিযান অন্যজনে ভেস্তে দেয়। সিএমপির সিসিটিভি ক্যামেরার কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গেছে, পুরো নগরীতে এ পর্যন্ত ৭৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে। এরমধ্যে ৭১টি সচল রয়েছে।