১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নয়া ১১ বিভাগ চালু করল হাসিনা সরকার


সমুদ্র হক ॥ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) ও হাসপাতালে ১১টি নতুন বিভাগ চালু হয়েছে। কলেজে এমবিবিএস ডিগ্রী লাভের পর ৫টি বিষয়ে ডিপ্লোমা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতাল স্থাপিত হয় বিএনপির শাসনামলে। তবে এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্রভাবে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), ক্যাজুয়েলটি এবং বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু করা যায়নি। হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের কোন ইউনিট স্থাপিত হয়নি। শজিমেকের উপাধ্যক্ষ ডাঃ রেজাউল আলম জানান, বিভাগগুলো জনবল পাওয়ার পর তা দ্রুত চালু করা হবে। সমাজসেবা অধিদফতরের ইউনিট স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। বগুড়ায় উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ৫শ’ শয্যার এই হাসপাতাল চালু করা হয় ২ হাজার ৬ সালের ৩১ আগস্ট। ওই সময়ে কার্ডিয়াক ইউনিট, সার্জাারিসহ অন্যান্য বিভাগ চালু হয়। উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কের দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় আহত অনেক রোগী শজিমেক হাসপাতালে যায়। গুরুতর অসুস্থদের জন্য ক্যাজুয়েলটি বিভাগ থাকা জরুরী হওয়া সত্ত্বেও তা হয়নি। শৈল্য চিকিৎসায় অপারেশনের পর আইসিইউ থাকা জরুরী। অথচ এই হাসপাতালে স্বতন্ত্র আইসিইউ নেই। বিকল্প ব্যবস্থায় কোন রকমে কাজ চালান হয়। বর্তমান অস্থির সময়ে মহাসড়কে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ বেড়ে যাওয়ায় অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। শজিমেক হাসপাতালে নিজস্ব কোন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট না থাকায় সার্জারি বিভাগের দুইটি কক্ষের প্রতিটিতে ১০টি করে শয্যার বিকল্প ব্যবস্থায় কোন রকমে বার্ন ইউনিট চালু রাখা হয়েছে।

উপাধ্যক্ষ জানান, এর মধ্যেই বর্তমান সরকারের শাসনামলে ১১টি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। তা হলো, শিশু সার্জারি, শিশু নেফরোলজি, কিডনি, ইউরোলজি, হেমাটোলজি, হেপাটোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, রেসপ্রেটরি মেডিসিন, গ্যাট্রো এন্ট্রোলজি, নিউরো সার্জারি, নিউরো মেডিসিন। বিভাগগুলো চালু করতে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই মেডিক্যাল কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর অব মেডিসিন ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) পাস করার পর কেউ ডিপ্লোমা করতে চাইলে ৫টি বিষয়ে তা করতে পারবে। ডিপ্লোমার এই বিষয়গুলো হলো, অর্থপেডিক, কার্ডিওলজি, শিশু, নাক কান গলা (ইএনটি) ও এ্যানাসথেসিয়া। কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য যে যন্ত্র আছে তা অবিলম্বে চালু করা হবে।

রিভার্স অসমোসিস ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করেই দুইটি মেশন সচল করা হচ্ছে। ম্যাগনেটিক রিজোলেন্স ইমেজ (এমআরআই) মেশিনটি ঠিকঠাক করে তা চালু করা হয়েছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় হেমাটোলজি বিভাগের রেডিও থেরাপির লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান যন্ত্র চালু রয়েছে। এই হাসপাতালে বর্তমানে গরিব রোগীদের জন্য যা জরুরী প্রয়োজন সেই সমাজসেবা অধিদফতরের ইউনিট চালু করা যায়নি। শুধু চিঠি চালাচালি চলছে প্রায় ৮ বছর ধরে। সমাজসেবা অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই তাদের অফিস চালু আছে। শুধু শজিমেকে সমাজসেবা বিভাগের অফিস স্থাপন করা যায়নি। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে হতদরিদ্র একজন রোগী ৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা, বিশেষ বিবেচনায় কখনও আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। অন্যতম বৃহত্তর হাসপাতলে এই কার্যালয় না থাকায় অনেক দরিদ্র রোগী চিকিৎসা সেবা পেতে ধার দেনা করতে হয়। কখনও মূল্যবান জিনিস বিক্রি করতে হয়। তবে আশার কথা শুনিয়েছেন উপাধ্যক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই এই অফিস স্থাপিত হবে।