১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো শুরু হচ্ছে ১৯ ফেব্রুয়ারি


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি অর্জন করলেও পুষ্টির ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। এর একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এখনও প্রতিদিন জনপ্রতি মুরগির মাংসের ঘাটতি প্রায় ২৬ গ্রাম এবং ডিমের ঘাটতি প্রায় ২৩ গ্রাম। ফলে এখনও শূন্য থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৮.৭ শতাংশ খর্বাকৃতির, ৩৫.১ শতাংশ কম ওজনের এবং ১৬.৩ শতাংশ ক্ষীণকায় হচ্ছে। অপুষ্টির শিকার মা ও শিশুর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় কমলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। এ প্রেক্ষিতে মেধাবী ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়তে হলে পুষ্টিকর খাদ্য- ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়াতে হবে এবং পুষ্টি ঘাটতি পূরণে সরকার ও শিল্প উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে, ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) আয়োজিত ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পুষ্টি ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞগণ এসব অভিমত দেন। এ প্রেক্ষাপটে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় আসর নবম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০১৫। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গোলটেবিল আলোচনায় জানানো হয়, জাপানের মানুষ বছরে গড়ে ৬০০টি ডিম খায়, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ খাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০টি ডিম। মাংসের ক্ষেত্রে আমেরিকার মানুষ বছরে গড়ে যেখানে প্রায় ৫০ দশমিক ১ কেজি মাংস খায়, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ মুরগির মাংস খায় মাত্র ৩ দশমিক ৬৩ কেজি।

প্রফেসর ড. নাজমা শাহীন মূল প্রবন্ধে বলেন, প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ অনেক কম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হলে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত জরুরী।

মসিউর রহমান বলেন, হরতাল অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে সাধারণ মানুষের আয়-উপার্জনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্দশা বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন’ কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে হাজারীবাগ এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ফিড কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। তিনি জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় আসর ৯ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০১৫ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের শো’তে ১৪৭টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তিন দিনব্যাপী সেমিনারে ৪৭টি টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপন করা হবে।

ড. এম এ সাত্তার ম-ল বলেন, নিরাপদ খাদ্যের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর মধ্য দিয়ে পোল্ট্রি শিল্পে গতিশীলতা এসেছে। এখন মাংস ও ডিম উৎপাদনে মানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১১-১২ সালে বার্ড ফ্লু’র কারণে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ড. মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ২০৫০ সালে ২২ কোটি মানুষ হবে। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পোল্ট্রি শিল্পের উপর নির্ভর করতেই হবে। তিনি বলেন, মানুষের খাদ্যভাস পরিবর্তন হলে ভাতের উপর চাপ কমবে, চাপ বাড়বে পুষ্টির উপর। ফলে মেধাবী জাতি তৈরি হবে। তিনি জানান, ডিম এমন একটি পণ্য যা বাজারে ভেজাল হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাংস ও ডিম উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল নিরাপদ খাদ্য পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পোল্ট্রি শিল্পকে টেকসই করতে হবে।

ড. নিতিশ দেবনাথ বলেন, ভবিষ্যতের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সরকার ও শিল্প মালিকদের মধ্যে পার্টনারশিপ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যে বাংলাদেশ চোখ ধাধানো অগ্রগতি অর্জন করলেও একটি জায়গায় ঘাটতি রয়েছে তা হচ্ছে পুষ্টি।