১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জাবিতে সমাবর্তন


শিক্ষাজীবনের পাঠ চুকিয়ে অনেকেই প্রবেশ করেছেন কর্মজীবনে। কর্মজীবনের স্রোতে কয়েক বছর আগেই পেছনে ফেলে যেতে হয়েছিল প্রাণের ক্যাম্পাস, প্রিয় বন্ধু, সতীর্থ, কাছের মানুষকে। জীবনের বাস্তবতায় স্থানের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল মনের দূরত্বকে। তাই অনেকেরই মন টানছিল প্রিয় ক্যাম্পাসে। আর প্রাণের সেই ক্যাম্পাসে ফিরে এসে যদি চিরচেনা সেই প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যায় তাহলে সে আনন্দ কোন বাধ মানে না, সে আনন্দের কোন সীমা থাকে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তেমনি একটি দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মেধার স্বাক্ষর রাখার জন্য সনদপত্র গ্রহণ করা জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় সময়। সত্যিকার অর্থে এমন সময় সারাজীবনে একবারই আসে। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিকট সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ছিল ৫ ফেব্রুয়ারি। কারণ ওই দিনটি ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনের দিন। সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাস সেজেছিল এক বর্ণিল সাজে।

শিক্ষাজীবন শেষে সনদপ্রাপ্তির বহু কাক্সিক্ষত মাহেন্দ্রক্ষণে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পেছনে ফেলে শত বাধা সত্ত্বেও হাজার প্রাণের মিলনমেলায় সমবেত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনে যোগদান করা কয়েক হাজার গ্র্যাজুয়েট। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সমাবর্তনে আসতে পেরে যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছিলেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয়ন্ত সরকার। তিনি বলেন, হরতাল, অবরোধের মাঝে দূর থেকে আসতে ভয় ভয় লাগলেও সবার সঙ্গে দেখা হওয়া আর রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সনদ গ্রহণের লোভ সামলাতে না পেরে চলে এলাম। সমাবর্তনে আসতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।

কর্মজীবনের স্রোতে হারিয়ে ফেলা প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে সমাবর্তনের গ্র্যাজুয়েটরা আবারও আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন দল বেঁধে। পুরনো শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাস জীবনের ফেলে আসা সেই সোনাঝরা দিনগুলোয় ফিরে যান। সমাবর্তনে অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের চোখেমুখেও উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে ওঠে। ক্যাম্পাস জীবনের প্রাণের সতীর্থদের সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে চলে ছবি তোলার মহড়া, ক্যাম্পাসের আনাচ কানাচ থেকে ভেসে আসে ক্যামেরার ‘ক্লিক ক্লিক’ শব্দ। ট্রান্সপোর্ট, চৌরঙ্গী, শহীদ মিনার চত্বর, অমর একুশে ভাস্কর্য, টিএসসি, ক্যাফেটারিয়া, পুরাতন কলাভবন, সমাজ বিজ্ঞান ভবন ও বটতলাসহ ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি জায়গায় দেখা যায় আড্ডা। তাঁদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছিল মুখরিত, পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইমন রহমান বলেন, সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় মিলনমেলা। বন্ধু, জ্যেষ্ঠ, কনিষ্ঠ সকলের সঙ্গে দেখা হওয়ার এক অপূর্ব সুযোগ ঘটে এই সমাবর্তনে। আদতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এত বড় সমাগম আর সম্ভব নয়। তাই সবাই সমাবর্তনে সকলের সঙ্গে সমবেত হতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয়ার পর্ব সমাবর্তনে এসে আনন্দের পাশাপাশি আবেগে ভারাক্রান্তও হয়েছেন অনেকে। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া দর্শন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ সুলতান লিখন বলেন, সমাবর্তনে যোগদান করতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। কালো গাউন পরে ছবি তোলার সময় খুবই ভাল লাগছিল। কিন্তু যখন মনে হচ্ছে সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাগজে কলমে ছাত্রত্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে তখনই খারাপ লাগছে।

দীপঙ্কর দাস