১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে গর্জন গাছ নিধন করে বোট তৈরি


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ চকরিয়া-পেকুয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বনাঞ্চলের বড় বড় গর্জন গাছ (মাদার ট্রি) নিধন করে প্রকাশ্যে ফিশিং বোট তৈরি ও মেরামতের হিড়িক পড়েছে। বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালীরা বাঁকখালী, রেজু ও মাতামুহুরী নদীর জেগে উঠা চরে ফিশিং বোট মেরামত ও তৈরি কাজে মেতে উঠেছে। বনজসম্পদ ধ্বংস করে বোট তৈরি কাজে জড়িতদের সঙ্গে কতিপয় বনকর্মীদের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, অবৈধ ফিশিং বোট তৈরিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বেসুমার গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে। ওইসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে কক্সবাজার উত্তর দক্ষিণ ও লামা বনবিভাগের সরকারী বনাঞ্চলের মূল্যবান সম্পদ উজাড় হতে চলছে। স্থানীয় লোকজন জানায়, মাসাধিক কাল ধরে চকরিয়া মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা চরে, পেকুয়া ও শহরের বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীদের অনেকে বনাঞ্চলের মাদার ট্রি নিধন করে ফিশিং বোট তৈরি ও মেরামত করে চলছে। এসব ফিশিং বোট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারী বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষরাজি। বনবিভাগের দুর্নীতিবাজ কতিপয় লোকের সঙ্গে গোপনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বনাঞ্চলের বড় বড় মাদার ট্রি নিধনের পর স’মিলে চিরাই করে তা ব্যবহার করছে বোট তৈরি কাজে। বনবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাকে বুঝানোর জন্যে এসব ব্যক্তিরা ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে নামমাত্র টিপি। তবে কারও কাছে বোট তৈরির সরকারী অনুমতি নেই বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়াও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় মাদার ট্রি কেটে বেতুয়াবাজার, পহরচাঁদা, কৈয়ারবিল, শহরের পেশকারপাড়া, খুরুশকুল, মাঝেরঘাট ও পেকুয়া এলাকায় ফিশিং বোট তৈরিতে মেতে উঠেছে অনেকে। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা খান হাফিজুর রহমান বলেন, ফিশিং বোট তৈরির জন্য কেউ বনবিভাগ থেকে অনুমতি নেয়নি। তবে লক্ষ্যারচরের ছিদ্দিক আহমদ নামে একব্যক্তি নিলামের কাঠ ব্যবহার করে বোট মেরামতের লক্ষে অনুমতি চেয়ে বনবিভাগে আবেদন করেছে। তবে তিনি নতুন বোট তৈরির জন্য আবেদন করেননি। মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ফিশিং বোট তৈরির ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।