২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গাজীপুর সিটি মেয়র মান্নান গ্রেফতার


নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি ॥ গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজধানী বারিধারার ডিওএইচএসের তার বাসা থেকে বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর পুলিশের একটি দল অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গ্রেফতারকৃত অধ্যাপক এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে নাশকতার জন্য গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় ইতোমধ্যে ৩টি মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা কর্মকা-ে উস্কানী, পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাজধানী বারিধারার ডিওএইচএসের তার বাসা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুর পুলিশের একটি দল অধ্যাপক এমএ মান্নানকে গ্রেফতার করে।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গত ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাতে ঢাকা-জয়দেবপুর সড়কে গাজীপুর মহানগরের সার্ডিগেট এলাকায় ঢাকাগামী বলাকা পরিবহনের একটি যাত্রবাহী বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করলে বাসে আগুন ধরে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পার্শ্ববর্তী সীমানা প্রাচীরের ওপর আছড়ে পড়ে। এ সময় পেট্রোলবোমার আগুনে ৮ বছরের শিশুসহ বাসের ৬ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়। এছাড়াও জ্বলন্ত বাস থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আরও ৩ জন আহত হয়। অগ্নিদগ্ধদের প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে শিশুসহ দু’জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নানকে প্রধান আসামি করে পরদিন (বৃহস্পতিবার) মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলায় বিএনপি জামায়াতের ৩৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জয়দেবপুর থানার এএসআই রেজাউল করিম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের ভাই আঃ কাদির, ছেলে মঞ্জুরুল আলম রনি, ভাতিজা আলমগীর হোসেন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, জিসিসির কাউন্সিল হান্নান মিয়া হান্নুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এর আগে অধ্যাপক এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে নাশকতার জন্য গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: