১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সাইবার হুমকি মোকাবেলায় ওবামার যুদ্ধ ঘোষণা


বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ বাড়ছে। বাড়ছে হ্যাকিং । সাইবার প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সাইবার আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। হ্যাকিংয়ের হাত থেকে কী করে রেহাই পাওয়া যায়, সেটাই আজ সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনি যখন অবস্থা, তখন সাইবার অপরাধের এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে গত ১২ জানুয়ারি। ওই দিন নিজেদের ‘সাইবার ক্যালিকেট’ পরিচয় দিয়ে একজন হ্যাকার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকমের’ টুইটার ও ইউটিউব এ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে দখল করে নেয়। তারা ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থনে কিছু বার্তা পোস্ট করে। পরে অবশ্য তাদের হটিয়ে দেয়া হয়।

সেন্টকমের বিরুদ্ধে এই সাইবার হামলা চাট্টিখানি কথা নয়। এই সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক তৎপরতার তত্ত্বাবধান করে থাকে। ঘটনাটা আমেরিকার নিরাপত্তার প্রতি যতটা না গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পেরেছে, তার চেয়েও বড় কথা এতে মার্কিন প্রশাসন যথেষ্ট বিব্রত হয়েছে। তবে সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের ওপর সাইবার হামলার অবমাননাকর ঘটনার পর এই হামলাটি আবার সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, হ্যাকিং আজ সবার জন্যই এক বিরাট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক’দিন আগে সাইবার হুমকি মোকাবিলার কিছু পদক্ষেপ প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো জাতীয় পর্যায়ে এমন আইন প্রণয়ন, যাতে করে কোন কোম্পানির সাইবার এ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে তা ত্রিশ দিনের মধ্যে জানানো হয়। আরেকটি প্রস্তাবে ডিজিটাল হুমকি সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ব্যবস্থাটি কোম্পানিগুলোর জন্য সহজতর করা হয়েছে। হ্যাকরেরা অনেক সময় বিভিন্ন টার্গেটের ক্ষেত্রে একই কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। সুতরাং তাদের কৌশল সম্পর্কিত ধ্যান-ধারণাগুলো দ্রুত সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া যাবে।

অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমন সব সংস্থা গঠন করেছে যেগুলোর কাজ হচ্ছে, নতুন নতুন সাইবার হুমকি সম্পর্কে একে অপরকে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু তারপরও কোম্পানিগুলো পরষ্পরকে তথ্য-উপাত্ত দেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানী।

হ্যাকিং রোধে প্রেসিডেন্ট ওবামা চাইছেন সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটেছে, এমন আশঙ্কাকারী কোম্পানিগুলো যেন তাদের তথ্য-উপাত্ত ডিএইচএসের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) হাতে দেয়Ñ এনএসের হাতে নয়। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রাক্তন সহকারী ক্রিস ফাইনান বলেন, এ থেকেই প্রমাণ হয় প্রেসিডেন্ট চাইছেন তথ্যে প্রবাহ কোন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে না দিয়ে এমন এক সংস্থার হাতে যাক, যার কাজ হচ্ছে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠমো রক্ষা করা।

মোদ্দাকথায়, সাইবার হুমকির হাত থেকে ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোকে আরও ভালভাবে রক্ষা করার জন্য ওবামা কংগ্রেসকে দিয়ে এমন আইন পাশের প্রস্তাব করেছেন, যাতে কোম্পানিগুলো সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যাবলী সরকারের সঙ্গে শেয়ার করে আবার একই সঙ্গে প্রাইভেসিও রক্ষা করে। তিনি সাইবার অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতিয়ার ও কৌশলগুলোর আধুনিকায়ন ঘটনোরও প্রস্তাব করেছেন এবং সেসঙ্গে বলেছেন যে, কোম্পানিগুলোর জন্য এমন এক জাতীয় মান প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে করে তারা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কর্মচারী ও গ্রাহকদের তা জানিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, কোন বিদেশী রাষ্ট্র, কোন হ্যাকার আমাদের নেটওয়ার্কগুলো বন্ধ করে দিতে, আমাদের ট্রেড সিক্রেট চুরি করতে এবং আমেরিকান পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত গোপন জীবনে হানা দিতে পারবে না।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আমরা যেমন করেছি, ঠিক তেমনি সাইবার হুমকি মোকাবিলায় সরকার যাতে গোয়েন্দা তথ্যাবলী সমন্বিত করে আমরা তা নিশ্চিত করছি। এ কাজ না করতে পারলে আমাদের রাষ্ট্র ও অর্থনীতি বিপন্ন হয়ে পড়বে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট