১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বসন্তের বইমেলা


আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের কথা। সে এক সময় ছিল কবিতার উত্তাল দিনে সাজানো সেøাগান কবিতার পঙ্ক্তিতে। সে এক সময় ছিল, যখন বইমেলার প্রাণ ছিল কবিতার বই। শামসুর রাহমান, শহীদ কাদেরী, সৈয়দ শামসুল হক, হেলাল হাফিজ, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র কাব্যগ্রন্থ ঘুরে ফিরতো তরুণদের হাতে। কবিতার বই কেনা হতো না কিংবা কণ্ঠে বাজত না কবিতাÑ এমন পাঠক মেলাই ছিল ভার। তখন তরুণদের কাছে তারুণ্য ও প্রেমের অন্যতম শক্তিই ছিল কবিতা। প্রেমিকও মিলতো প্রেমিকার সঙ্গে ঠিকই, কবিতার সেতু পার হয়ে। হেলাল হাফিজের মতো করে বলতো, ‘তোমাকে, শুধু তোমাকে চাই, পাব?/পাই বা না পাই, এক জীবনে তোমার কাছেই যাব।’ এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেত প্রেমিক মন। অথবা শোনা যেত প্রেমিক-প্রেমিকার মুখে নির্মলেন্দু গুণের পঙ্ক্তিমালাÑ ‘হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে, মন বাড়িয়ে ছুঁই/দুইকে আমি এক করি না, এককে করি দুই’। এভাবেই কবিতার পঙ্ক্তি দিয়ে পৌঁছাতো একে অপরকে কাছে। প্রেমিক মনের গোপন কথা ছিলÑ ‘কতবার যে আমি তোমাকে স্পর্শ করতে গিয়ে গুটিয়ে নিয়েছি হাত, সে কথা ঈশ্বর জানেন। তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও কতবার যে আমি সে কথা বলিনি, সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।’ তবে সময় বদলেছে অনেক। এখন কেবলই আখ্যানের সময়। মানুষ ভালোবাসে পরস্পরকে এখন আবেগে নয়, কল্পনায় নয়; ব্যাখ্যায়। তাই তো কবিতার জায়গা দখল করে নিয়েছে গল্প-উপন্যাস। ক্রমাগত সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের গল্প। মানুষ এখন গল্প শুনতে ভালোবাসে, গল্প বলতে কিংবা বানাতে ভালোবাসে। এখন তরুণদের প্রথম ও অনন্য পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আনিসুল হক কিংবা মোহিত কামাল। কীভাবে যেন ভালোবাসাও এখন হয়ে উঠেছে উপলক্ষের অংশ। বছরের কোন একটি দিনকে ঘিরে চলে ভালোবাসার যাবতীয় আয়োজন। অন্তহীন-চিরন্তন প্রেম সীমাবদ্ধ হয়ে এখন পরিণত হয়েছে ক্যালেন্ডারের তারিখে। ‘ভালোবাসা দিবস’ মানেই ভালোবাসা প্রকাশের দিন। তাই সেদিনটি উপলক্ষ করে তরুণ প্রেমিক-যুগল মিলিত হয় বইমেলার প্রাঙ্গণে। গোপন স্পর্শ নয়, বরং প্রাকাশ্যে সান্নিধ্যে উচ্ছল আনন্দে মাতে তারা। সময়ের এ ইতিবাচক প্রবাহকে সহজে গ্রহণ করে নিয়েছে সময়। আর ভালোবাসার দিনের আগের দিন থাকে পহেলা ফাগুন। বাসন্তী রঙে সেজে ওঠে পুরো বইমেলা তখন। মহাদেব সাহার ভাষার মতো পাল্টে যায় প্রেমের পঙ্্ক্তিÑ ‘তুমি শুদ্ধ করো আমার জীবন, আমি প্রতিটি ভোরের মতো আবার নতুন হয়ে উঠি, হই সূর্যোদয়।’