২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ওরা মরিয়া


একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ওরা মরিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সকল প্রতিবেশী দেশকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বিএনপিও সেই সময়টিতে সহনশীল ছিল, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু হটাৎ কী হলো? ২০১৫ সালে এসে তাদের কী হয়েছে? বিষয়টিকে সাধারণভাবে দেখা যায় না। বিএনপি-জামায়াত বর্তমানে যা করছে তা মাফিয়াদেরও কর্মকা- হতে পারে না। গত ৪৩ বছর ধরে জামায়াত বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানিয়ে ৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জনসহ গোটা বাংলাদেশকে ধ্বংসের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে, সন্ত্রাসের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত ধ্বংস না করলে সমাজ ও রাজনীতিকে সন্ত্রাসমুক্ত করা যাবে না। লন্ডনে বসে তারেকের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্রিটেন সরকারকে সর্তক করা হয়েছে। তারা আমাদের বক্তব্য খুব গভীর মনোযোগ সহকারে গ্রহণ করে পদক্ষেপও নিয়েছে। তাদের প্রতি আহ্বান এখনই এসব অপরাজনীতি বন্ধ করুন। দেশের মানুষ আজ ক্ষিপ্ত। মানুষ আপনাদের এই অত্যাচার আর সহ্য করবে না। এমনভাবে চলতে থাকলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ারও পথ খুঁজে পাবেন না।

সোমবার রাজধানীর ধানম-ির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে দেশে চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে ‘সন্ত্রাস, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, লন্ডনে বসে তারেকের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্রিটেন সরকারকে সর্তক করা হয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে লন্ডন কিছুটা হলেও জড়িত। তাদের সঙ্গে আমদের বন্ধুত্ব রয়েছে, বন্ধুত্ব আমাদের প্রয়োজনীয়। কিন্তু লন্ডনকেও মনে রাখতে হবে সবকিছুতেই একটি সহ্যের সীমা থাকে। তাদের ভূখ- ব্যবহার করে আমাদের দেশ নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারে না। তা হতে দেয়া যায় না। তারা আমাদের বক্তব্য খুব গভীর মনোযোগসহকারে গ্রহণ করে পদক্ষেপও নিয়েছে, যা ইতিবাচক।

সংলাপ নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, সংলাপ নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের বলছি, আমাদের তো ওরা মানুষই মনে করে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থাকবে কি থাকবে না, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বাংলাদেশ রক্ষার নিমিত্তে কাজ করে যাচ্ছি। তারপরও যদি সংলাপের কথা বলেন তাহলে খালেদাকে বলব আসেন, আপনি পাকিস্তান চলে যান। এছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই। দয়া করে খালেদার কাছে কেউ দয়া ভিক্ষা চাইবেন না।

পেট্রোল বোমাবাজদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওয়াতায় আনা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমান সময়ে সন্ত্রাস করছে ছয় মাসের মধ্যে তাদের বিচারকাজ শেষ করা হবে। এদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নই, আমরা মানবাধিকারের পক্ষে। আমরা রাজনীতিবিমুখ নই, আমরা মানবাধিকার রক্ষায় রাজনীতি করি। বহুবার বলেছি কোন অশুভ পন্থায় শুভ কিছু অর্জন করা যায় না। সন্ত্রাস করে গণতন্ত্র হয় না। তাই এখনই এসব বন্ধ করতে হবে।

লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির তাঁর সূচনা বক্তব্যে বলেন, সকল প্রতিবেশী দেশকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বিএনপিও সেই সময়টিতে সহনশীল ছিল, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু হটাৎ কী হলো? ২০১৫ সালে এসে তাদের কী হয়েছে? বিষয়টিকে সাধারণভাবে দেখা যায় না। বিএনপি-জামায়াত বর্তমানে যা করছে তা মাফিয়াদেরও কর্মকাণ্ড হতে পারে না। জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপি একই ভাষায় কথা বলছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র করছে।

বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশিদ, মানবাধিকার নেতা রোকেয়া কবীর, ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা প্রমুখ। একই সময়ে বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে কবীর চৌধুরীর জীবনীর ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের নিবন্ধ ‘কবীর চৌধুরীর স্মারক বক্তৃতা-৪’ পাঠ করা হয়। এ সময় বক্তারা কবীর চৌধুরীর জীবনের ওপর আলোকপাত করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: