২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মার্কিন জিম্মি জর্দানী বিমানের বোমাবর্ষণে নিহত!


ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করেছে, সিরিয়ায় তাদের হাতে জিম্মি ২৬ বছর বয়স্ক মার্কিন নারী কায়লা জীন মুয়েলার শুক্রবার জর্দানী জঙ্গী বিমানের বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। তারা বলেছে, কায়লাকে যে ভবনে আটক রাখা হয় সেটিতে বোমাবর্ষণ করা হলে তিনি নিহত হন। অন্যদিকে, কায়লার মা-বাবা বলেছেন, তাঁদের মেয়ে জীবিত রয়েছেন এখনও এবং তাঁকে অতিথি হিসেবে আচরণের জন্য জঙ্গীদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। খবর ওয়াশিংন পোস্ট ও বিবিসি অনলাইনের।

আইএসের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এটাও পরিষ্কার নয় যে জর্দানী বিমান ওই এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে কি না। বোমাবর্ষণের এলাকাটি আইএসের অঘোষিত রাজধানী রাক্কার কাছাকাাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএস একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের আলোকচিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে, বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হলে ভবনটি বিধ্বস্ত হয়। কিন্তু আলোকচিত্রে কায়লার মৃতদেহের কোন প্রতিচ্ছবি দেখা যায়নি।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, মানবিক ত্রাণকর্মী কায়লার নিহত হয়েছেন এ রকম প্রমাণ তাঁরা দেখেননি। তিনি যে ভবনে নিহত হয়েছেন বলে আইএস বলছে সে ভবনের কেবল ধ্বংসাবশেষের আলোকচিত্র প্রকাশ করেছে তারা। কিন্তু তার মৃতদেহের কোন আলোকচিত্র দেখা যায় না। আইএস বলেছে, জর্দানী জেট বিমান থেকে তাদের সিরীয় ঘাঁটি রাক্কার উপকণ্ঠে ওই ভবনে বোমাবর্ষণ করেছে। জর্দান সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্যবস্তুর বিমান হামলা চালিয়েছে বৃহস্পতিবার। আম্মান আইএসের রিপোর্টকে প্রচার বলে নাকচ করে দিয়েছে।

কায়লার মা-বাবা আইএসের সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রুপটি তাদের মেয়ের মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে তাদের প্রকাশ্য নীরবতা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁরা বলেছেন, আমরা এখনও আশাবাদী যে কায়লা জীবিত আছে। তারা আইএসের উদ্দেশে বলেন, আমরা একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছি আপনাদের কাছে এবং আবেদন জানিয়েছি যে আপনারা ব্যক্তিগতভাবে তার জবাব দেবেন। আপনারা আমাদের বলেছেন, কায়লার প্রতি আপনাদের আচরণ হবে অতিথি হিসেবে এবং তার নিরাপত্তা কল্যাণ নির্ভর করে আপনাদের দায়িত্বের ওপর। নর্দার্ন আরিজোনা ইউনিভার্সিটির স্নাতক কায়লা শরণার্থীদের মধ্যে কাজ করার জন্য তুর্কি-সিরীয় সীমান্তে প্রথমবারের মতো আসেন ২০১২-এ। তিনি এক বছর পর সিরিয়ায় আলেপ্পোয় দায়িত্ব পালনের সময় অপহৃত হন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তিনি হবেন চতুর্থ মার্কিন জিম্মি, যাদের আটকাবস্থায় হত্যা করেছে আইএসের আগে আইএস শিরñেদ করেছে সাংবাদিক জেমস ফোলি, স্টিভেন সটলোক ও ত্রাণকর্মী পিটার কাসিংয়ের।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছেন, কায়লার মৃত্যু সংবাদে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কর্মকর্তারা আইএসের রিপোর্ট নিশ্চিতের কোন প্রমাণ দেখছেন না। তিনি নিহত হয়েছেন বলে আইএস যে দাবি করছে সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছেন অনেকেই। আইএস জঙ্গীরা এক জর্দানী বৈমানিককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চিত্র প্রকাশের পর জর্দান এ জঙ্গীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে জোটের সঙ্গে তাদের বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে। জর্দানের রানী রানিয়া বলেছেন, আমাদের একার পক্ষে এই যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। তবে এটা একান্তভাবে আমাদেরই যুদ্ধ। কিন্তু এ লড়াই শুধু আমাদের। আইএসের বিরুদ্ধে সরকারের এ সামরিক অভিযানের সমর্থনে শুক্রবার তা আম্মানে সমাবেশ করেছে হাজার হাজার মানুষ। সমাবেশে যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন জর্দানের ফার্স্ট লেডি রানী রানিয়া। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, আমাদের এ আতঙ্ক বিভীষিকার মধ্যে দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ।