২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আসাদের প্রতি সমর্থন ত্যাগে পুতিনকে চাপ সৌদির!


সৌদি আরব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সৌদিরা এমন এক সময় বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাদের আধিপত্যকে ব্যবহার করে এই চাপ দেয়ার কৌশল নিয়েছে যখন রুশ সরকার তেলের আকস্মিক দরপতনে দুরবস্থার সম্মুখীন। আমেরিকান ও সৌদি কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাসে সৌদি আরব ও রাশিয়া বহুবার আলোচনায় মিলিত হলেও এ পর্যন্ত তাতে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এটি পরিষ্কার নয় যে, সৌদি কর্মকর্তারা কত খোলাখুলিভাবে ওইসব আলোচনায় সিরিয়া প্রশ্নকে তেলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে, সৌদি কর্মকর্তারা বলেছেন যা তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, তেলের সরবরাহ হ্রাস করে এবং সম্ভবত দর বৃদ্ধি করে পুতিনের ওপর প্রভাব বিস্তারে তাদের কিছু ক্ষমতা রয়েছে।

একজন সৌদি কূটনৈতিক বলেছেন, ‘তেল যদি সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারে, আমি জানি না সৌদি আরব কিভাবে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা থেকে সরে আসবে।’ প্রেসিডেন্ট পুতিন অবশ্য বার বার এ কথা পরিষ্কার করেছেন যে, নীতি পরিবর্তনের জন্য বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বরং তিনি অর্থনৈতিক কষ্ট স্বীকার করবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশসমূহের আরোপিত অবরোধ মস্কোকে ইউক্রেনে তার সামরিক বাহিনীকে জড়িত করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি এবং পুতিন আসাদের প্রতি তার অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, যাকে তিনি ইসলামী জঙ্গী তৎপরতায় ক্রমবর্ধমানভাবে অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলের রক্ষাপ্রাচীর হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। ওবামা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার জানান, গত নবেম্বরে মস্কো সরকারী একটি সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান আলোচ্য বিষয়ের একটি ছিল সিরিয়া। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এটি পরিষ্কার নয় যে, গত ২৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যু এসব আলোচনার কী প্রভাব ফেলেছে। সৌদিরা গোপনীয়তার সঙ্গে এসব আলোচনায় অংশ নেয়।

রাশিয়া সিরীয় প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে একনিষ্ঠ সমর্থকদের অন্যতম। রাশিয়া ইসলামিক স্টেটসহ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আসাদ বাহিনীর লড়াইয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে সামরিক সাজ-সরঞ্জাম বিক্রি করছে। এ ছাড়া রাশিয়া সিরিয়াকে যন্ত্রাংশ এবং বিশেষ ধরনের জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য দিচ্ছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।