২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাঈদ আহমেদের ‘দ্য থিং’ নাটক মঞ্চস্থ


সাঈদ আহমেদের ‘দ্য থিং’ নাটক মঞ্চস্থ

বাংলাসাহিত্যে এ্যাবসার্ড ধারার নাটক শুরু ১৯৭৪ সালের দিকে সাঈদ আহমদ এর রচনাশৈলীর মাধ্যমে। অবশ্য এর আগে তিনি ইংরেজী ভাষায় তিনিটি এ্যাবসার্ড নাটক লিখেছেন। ১৯৬১-৬২ সালে তিনি লিখেন দ্য থিংক (ঞযব ঞযরহম) বাংলায় কালবেলা, ১৯৬২-৬৪ সালে লিখেন দ্য মাইলপোস্ট (ঞযব গরষব চড়ংঃ) ও ১৯৬৪-৬৬ তে রচনা করেন সারভাইবেল (ঝঁৎারাধষ) বাংলায় তৃষ্ণায় নাটকটি। এরপর দুটি বাংলা নাটক লেখেন ‘একদিন প্রতিদিন (১৯৭৪ ) ও শেষ নবাব (১৯৮২)। শেষ নবাব নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিতি ও বঙ্গবন্ধুর বিয়গান্তক মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরেছেন নাট্যকার নিপুণ কৌশলে। একজন বড় নাট্যকারের এটাই সার্থকতা। সাঈদ আহমদের নাটক অনূদিত হয়েছে ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায়। এ্যাবসার্ড ধারার নাটক রচনার যোগ্যতাস্বরূপ তিনি ফ্রান্স সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘লিজিওন ডি ওনারে’ ভূষিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এরেনা থিয়েটারের একটি দর্শক সারি তাঁর নামকরণে রাখা হয় ‘সাঈদ আহমদ- রো’ নামে। বিশ্ব বরেণ্য এই বাঙালী নাট্যকার ইন্তেকাল করেন ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি।

১৯৮০ সালের পর যখন থিয়েটারে নাট্য আন্দোলন জোরালো হয় তখন সাঈদ আহমদের নাটক মঞ্চস্থ করেছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় থিয়েটার গ্রুপগুলো। সময়ের প্রেক্ষপটে নাটকগ্রলোর আলোড়নও তুলেছিল। যদিও বিষয়বস্তু সার্থকতা অনেকে ভাবিয়ে তুলেছিল। দেশের দর্শক ও নাট্যপরিচালকরা নতুন ধারার এই নাটককে প্রাণবন্ত ধারায় উপস্থাপনের অপ্রাণ চেষ্টা চালি সফলও হয়েছিল। এ্যাবসার্ড নাটকের আবদেন কখনও কখনও এতটাই প্রাণবন্ত ও বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে যায় তা হয়ে পড়ে অতিবাস্তব। সর্বজনীন রূপ নেয়। তখন এর অতি বাস্তব দিকটি আর অতিক্রম করা যায় না। জন এ্যাসবার্ন, জ্যা এ্যানুউ, ইয়োজেস্কো, স্যামুয়েল বেকেট, জ্যঁ পল সার্তে, কামুর এই ধরনের বিশ্ববরেণ্য কয়জন নাট্যকার। সাঈদ আহমদ যে পাঁচটি এ্যাবসার্ড ধারার নাটক লিখেছিলেন তার প্রথমে তিনটি ছিল ইংরেজী ভাষায়। পরে তার মতামতের ভিত্তিতে নাটকগুলো বাংলায় অনুবাদ করা হয়। বাংলাদেশে মঞ্চ ও টিভিতে সাঈদ আহমেদের নাটক মঞ্চস্থ ও প্রচারিত হয়েছে বাংলায়। এই প্রথমবারের মতো গত ২৫ জানুয়ারি শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দ্য থিং ইংরেজী ভাষায় মঞ্চস্থ হয়। ড. সাজেদুর রহমানের পরিচালনা নাটকটি দেখে দর্শক মুগ্ধ হয়। নাটকের বিষয়বস্তুকে ধারণ করে মহাকালের আবর্তে যে ব্যতিক্রমী এক চরিত্রে অভিনয় করে মনিরা শারমিন প্রীতুর অভিনয় সাবর দৃষ্টি কাড়ে। বলা যায় তার অভিনয় শৈলীর গুণে নাটকটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। নাট্যকারের লেখা অন্যান্য নাটক নিয়োমিত মঞ্চায়ন হলে আমরা সাঈদ আহমদের নাট্য জীবনের উজ্জ্বল দিনটি জানতে পারব। জানতে পারব আমাদের জ্ঞানী-গুণী নাট্যকারদের সম্পর্কে। প্রথম ইংরেজী ভাষায় থিয়েটারের সাফল্য ঘটুক এটাই সবার কামনা।

আবু সুফিয়ান কবির