১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ ফোরকান মল্লিকসহ অন্যরা গোলাপী রানীকে ধর্ষণ করে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিক ও কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী কবিরাজ শান্তি রঞ্জন দে জবানবন্দীতে বলেছেন, ফোরকান মল্লিক ও অন্য রাজাকাররা রামকৃষ্ণ সাহার মেয়ে গোলাপী রানীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে তার মৃত্যু হয়। এর পর তারা সুষমা ও শোভা রানীকে ও ধরে নিয়ে যায়। এ ছাড়া রাজাকার ফোরকান মল্লিক শ্যাম সুন্দর ডাক্তারকে ধর্মান্তরিত করে মুসলমান বানিয়েও তার বাড়ি লুটপাট করেছে। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জেরা করার জন্য আজ দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে ১২তম সাক্ষী মোঃ আতাহার আলী ভুইয়া জবানবন্দীতে বলেছেন, হাসান আলীর নির্দেশেই হত্যা, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছে।

রাজাকার ফোরকান মল্লিক ও কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। আজ আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করবেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম কবিরাজ শান্তি রঞ্জন দে। পিতা-মৃত নারায়ণ চন্দ্র দে, মাতার নাম-জ্যোৎস্না রানী দে। গ্রাম-সুবিদখালী, থানা- মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী।

সাক্ষী জবাবন্দীতে বলেন, এ ছাড়া আমড়াগাছিয়া গ্রামে একটি বাড়ি আছে। আমার বর্তমান বয়স ৬৩ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি সুবিদখালী রহমান ইসহাক পাইলট বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। তখন আমি ছাত্রলীগ করতাম। আমাদের পারিবারিক পেশা কবিরাজি। আমি সেই পেশাতেই বর্তমানে আছি। ১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট পায়রা নদীর দিকে কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। লোকমুখে জানতে পারি যে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের অধিবাসী বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ খলিফা এবং পূর্বে আটক কাদের জমাদ্দারকে পাকসেনা ও রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে পায়রা নদীতে ফেলে দেয়। পরে জানতে পারি হাফিজ খলিফাকে পূর্বেই রাজাকার ও পাকসেনারা ধরে আটক করে রেখেছিল।

সাক্ষী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট আমি বেলা অনুমান ১২টার দিকে আড়াল থেকে দেখতে পাই রাধেশ্যাম কু-ুর তিন ছেলে রমনী কু-ু, সুনীল কু-ু, ও ডাক্তার শ্যাম সুন্দর কু-ুকে ফোরকান মল্লিক, শাহজাহান শিকদারসহ বেশ কয়েকজন সশস্ত্র রাজাকার ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছে। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে দেখি উল্লেখিত তিন ভাইয়ের পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরিহিত এবং প্রত্যেকের মাথায় টুপি। এই অবস্থায় আমি ডাক্তার শ্যাম সুন্দরকে জিজ্ঞেস করি, কাকু আপনাদের এই অবস্থা কেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আর বলিস না এদেশে আমরা আর বসবাস করতে পারব না। আমাদের রাজাকারা জোরপূর্বক ধরে নিয়ে প্রাণের ভয় দেখিয়ে কলেমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়েছে। আমাদের নামও পরিবর্তন করেছে। আমার নাম রেখেছে ডাক্তার শাহজাহান, রমনী কু-ুর নাম রেখেছে রফিকুল ইসলাম আর সুনীলের নাম রেখেছে শরিফুল ইসলাম। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও রাজাকার ফোরকান, শাহজাহান শিকদার উল্লেখিত ৩ জনের বাড়িঘর লুটপাট করে। তারা লজ্জায় ও ভয়ে ভারতে চলে গেছে।

প্রসিকিউশনের সাক্ষী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট আনুমানিক রাত আটটার দিকে আমি আমাদের পুরনো বাড়ি থেকে সুবিদখালী বাজারের বাসায় আসছিলাম। আমার সঙ্গে আমাদের কাজের ছেলে আব্দুল মজিদও ছিল। এ সময় দেখতে পাই গোলাপী রানী নামে ১৬-১৭ বছরের একটি মেয়ে নিয়ে রাজাকারা পশ্চিম দিকে যাচ্ছে। রাজাকারদের হাতের টর্চের আলোতে গোলাপী রানীকে চিনতে পারি। বাসায় যাওয়ার পর রামকৃষ্ণ সাহার বাসা থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে শুনতে পাই, যোগী বাড়ির সুপারি বাগানের ভেতরে একটি নির্জন জায়গায় আসামি ফোরকান মল্লিকসহ অন্য রাজাকাররা গোলাপী রানীকে ধর্ষণ করে। পরে তার মৃত্যু হয়।

হাসান আলী ॥ কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে ১২তম সাক্ষী মোঃ আতাহার আলী ভুইয়া জবানবন্দীতে বলেছেন, হাসান আলীর নির্দেশেই হত্যা, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: