২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যশোরের যাত্রাশিল্পী প্রণব বিশ্বাস এখন ব্যবসায়ী


দারিদ্র্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে কত লোকই তো কত রকম জীবিকা বেছে নেয়, কেউ কেউ আবার শখের কাজও বেছে নেয়। এমন এক পেশার নাম হলো যাত্রা। যশোরের যাত্রাশিল্প এক সময় সারাদেশ নাম করে। যশোরের মনিরামপুর, অভয়নগর এবং কেশবপুরের অসংখ্য মানুষ একসময় পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যাত্রাশিল্প। কেউ পেটের দায়ে, কেউ শখের কারণে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন যাত্রাশিল্প আর নেই।

এক সময়ের যাত্রা নায়ক কেশবপুরের প্রণব বিশ্বাস বিষ্ণু জানান, বর্তমান যাত্রাশিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। একসময় এটা একদম হারিয়ে যাবে। এর অন্যতম কারণ এখন ভাল নাটক তৈরি হয় না। অল্প যা তৈরি হচ্ছে তার মান ভাল না। হাতেগোনা দু-একটি যাত্রাদল থাকলেও মান ভাল না। তারা এখন অশ্লীলতা চর্চা করে। নতুন শিল্লীও এখন তৈরি হচ্ছে না। যাত্রাশিল্পকে এখন কেউ আর পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছে না। এ পেশার ভবিষ্যত নেই, সে কারণে কেউ এ পেশায় আসতেও চায় না। এছাড়া প্রশাসনিক জটিলতায় যাত্রাশিল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত করতে থানা, উপজেলা, সেনেটারি ইন্সপেটর ও জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। যা খুব কঠিন বর্তমান সময়ের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন মেলে না।

কেশবপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রণব বিশ্বাসের বাড়ি। বাড়ির সঙ্গেই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৪ বছর। ১৯৭৩ সালে ভারত থেকে বঙ্গনাট্য অপেরায় তিনি যোগ দেন। এরপর দেশের মেঘনা অপেরা ও দীপ দীপালী অপেরাসহ অন্যান্য অপেরায় নায়কের অভিনয় করেন। ভাল অভিনেতা হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পুরস্কার পেয়েছেন একবার। স্বামীর চিতা জ্বলছে, মরেও যারা মরে না, প্রেম আছে প্রিয়া নেই, মায়ের চোখে জল, মসনদসহ অনেক পালার নায়কের অভিনয় করেছেন প্রণব বিশ্বাস।

Ñসাজেদ রহমান, যশোর

ও কবির হোসেন

কেশবপুর থেকে