২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব ক্যানো’


সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র-বিয়োগের শোকে অতীব শোকাভিভূত হয়ে এই শনিবারের চতুরঙ্গের নির্ধারিত কলামটি রচনা করব। একজন মার কাছে পুত্র-শোক কতখানি গভীর তা বুঝাবার জন্য ভাষা নয়, অনুভূতি দরকার। তার ওপর এই পুত্রও দুঃখী পুত্র। দীর্ঘদিন থেকে রোগাক্রান্ত জীবন ছিল তার। মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ৮ বছর ধরে সুদূর মালয়েশিয়ায়। অবশ্য স্ত্রী সন্তান সঙ্গে থাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিল। তবে সম্মানের জীবন ছিল না। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে দেশে মার কাছে ফিরতে পারছিল না। পরন্তু যে টাকা স্যুটকেস ভরে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল তার মধ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিঙ্গাপুরের সরকার ও ব্যাংকের সহায়তায় ফেরত নিয়ে এসেছে। আরও কত টাকা ছিল বা না থাকলে অবশ্যই অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। নাও হতে পারে। শুনেছি বড় ভাই তারেক রহমান লন্ডনের নাম্বার ওয়ান পশ এলাকায় অভিজাত জীবনযাপন করছে। এ অভিজাত অর্থ মেধায় মননে-সততায় নয়Ñ অর্থসম্পদে গাড়ি বাড়িতে। তা থেকে ছিটেফোঁটা ছোট ভাইকে পাঠালেও অনেক। তারেক কোথায় টাকা পায় লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল রাজকীয় নগরে পশ লাইফ লিড করার জন্য তা সেই জানে। তবে দেশ ত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী মার সঙ্গে সৌদি আরব নাকি গিয়েছিল, ৪৮টি বড় বড় স্যুটকেস নিয়ে। তখন কাগজে ছাপা হয়েছিল কেউ কেউ বক্তৃতায়ও বলেছিলেন ওইসব স্যুটকেসে দেশী-বিদেশী মুদ্রা থাকলেও থাকতে পারে। সবই শোনা কথা। এমনও শোনা গেছে, তারেক দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক চোরাচালানী দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গেও দেখা করেন। এইটুকুই শুনেছি। এর বাইরে কিছু জানি না। তবে অত্যন্ত বেদনার ব্যাপার হলো কোকোর জানাজায় এত মানুষ অংশ নিলেন, নিতে পারল না ভাই তারেক। নেবেন কি করে? সেও যে কোকোর মতই ফেরারী আসামি। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ঝুলছে তার ঘাড়ে।

সব মিলিয়ে খালেদা জিয়া পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত এটা সহজেই বোঝা যায়। তাঁর ছেলের তবুও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার চেয়ে হাজার লাখো গুণ বেশি স্বজন হারানোর বেদনা হৃদয়ে চেপে রেখে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণে উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতির পিতার কন্যা। পিতার মতই রাষ্ট্রের প্রশ্নে যত কঠিনই হোন না কেন, মানুষের দুঃখ-কষ্টে তেমনি কোমল দরদী। তাইতো ছুটে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার বাসায় সমবেদনা জানাতে। আমরা দেখি ক্ষমতায় থাকুন আর না থাকুন মানুষের বিপর্যয়ে শেখ হাসিনা; রংপুরের মঙ্গা কবলিত এলাকায় শেখ হাসিনা; জলোচ্ছ্বাস কবলিত উড়িরচরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা; সুনামিতে ঘরবাড়িহারা মানুষের পাশে শেখ হাসিনা; উত্তরবঙ্গের শীতার্ত মানুষের পাশে শেখ হাসিনা; এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদল-জামায়াত-শিবিরের পেট্রোলবোমায় হতাহত এবং আগুনে ঝলসে যাওয়া মুখম-ল নিয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণাকাতর মানুষগুলোর পাশে শেখ হাসিনা; বিশেষ করে আগুনে পোড়া শরীরের ব্যান্ডেজ নিয়ে বার্ন ইউনিটে পড়ে থাকা শিশু ও নারীদের পাশে শেখ হাসিনা : এই শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অন্যের কষ্ট হলে তাঁর কষ্ট হয়। আমরা দেখেছি পুরনো ঢাকায় আগুনে পুড়ে বাবা-মা-বোন সব হারানো তিন কন্যার পাশে শেখ হাসিনা; ক’দিন পরই যাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি মায়ের ভূমিকায় আবির্ভূত হলেন, মা হয়ে তিন কন্যার বিয়ে দিলেন এবং এখনও তাদের সংসারের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া ঢাকার ধানম-ি ও টুঙ্গিপাড়ার শেখ বাড়ি জাতির জন্য দান করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে ট্রাস্ট করে, ট্রাস্টের টাকা আড়াই হাজারের মতো ছেলেমেয়েকে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বৃত্তি দিয়ে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করছেন। এই মানবতাবাদী নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা দেখছি যখনই বিএনপি-জামায়াত জোট বেঁধে ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে। তিনি সকল প্রকার ভয়-ভীতির তোয়াক্কা না করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মায়ের মমতা নিয়ে, বোনের স্নেহ নিয়ে কিংবা কন্যার শ্রদ্ধা নিয়ে। সমাজে পশ্চাৎপদ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীদের সংখ্যা বলা যায় শহুরে মুষ্টিমেয় সুশিক্ষিত এবং আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নারী ছাড়া ৯০ শতাংশই অবহেলিত। শিক্ষায়, দীক্ষায় এমনকি পরিবারে সম্মানের জায়গাটাও তাদের জন্য সঙ্কুচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নারীরা এখানে আরও বেশি অবহেলিত। একটা সময় ছিল সম্পন্ন পরিবারেও মাছের মুড়োটা ছেলেকে খেতে দেয়া হতো, মেয়ের পাতে নয়। যদিও আজ সে অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। আজ নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। আমাদের নারী শিক্ষার হারের সঙ্গে হিসাব করলে এ হার ৭-এর স্থলে প্রথম দ্বিতীয়ও হতে পারে। কারণ ক্ষমতায়নটা নির্ভর করে শিক্ষার ওপর। একজন নারীর শিক্ষিত হওয়া মানে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করা, এমনকি সমাজে, রাষ্ট্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এনে দেয় শিক্ষা। এ ক্ষেত্রে বাংলার মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত নারী জাগরণের যে চৈতন্যের জন্ম দিয়েছিলেন তা কবি বেগম সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম, বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ, নবাব ফয়েজুন্নিসা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হয়ে আজ শেখ হাসিনার হাত ধরে পূর্ণতা পেতে শুরু করেছে। নারীরা আজ অন্যায়-অবহেলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শিখেছে।

আমরা দেখলাম খালেদা জিয়ার অপরাধী সন্তান প্রয়াত হলে শেখ হাসিনা সব ভুলে ছুটে গেলেন খালেদার বাসস্থান গুলশানের কার্যালয়ে। হোক না রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তবু তো মা। অথচ এই খালেদা পুত্র তারেক তাঁকে হত্যা করার জন্য এক ডজনেরও বেশি গ্রেনেডের হামলা চালিয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সেই গ্রেনেড হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং তিন শতাধিক স্পিøন্টারে আহত হন। শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মানব প্রাচীর রচনার মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে গেলেও এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জননেতা আবদুর রাজ্জাক, মুহম্মদ হানিফ তো গ্রেনেডের স্পিøন্টার নিয়ে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এই ঘটনার সময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেদিন তিনি এই জঘন্য হত্যাকা-ের নিন্দা তো করেনইনি, বরং ছেলের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এমনও বলেছেন যে, ‘শেখ হাসিনাই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সমাবেশে গিয়েছিলেন (?)’ কি জঘন্য মানসিকতা! প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলতে চাই, গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গোটা এলাকা মানুষের তাজা রক্তে ভরে গিয়েছিল, আর সেই রক্তের মধ্যে আইভি রহমানসহ আহত কর্মীরা যখন বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টা করছিলেন, অনেক নেতাকর্মী যখন তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে যান তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে দেয়। এতে একদিকে গ্রেনেড হামলাকারীরা সহজে পালিয়ে যায়, অন্যদিকে উদ্ধারকর্মীরাও টিয়ার গ্যাসে চোখ খুলতে পারছিলেন না। উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছিল। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, মন দিয়ে অনুভব করতে হয়। এই খালেদা জিয়া তাঁর স্বামী জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দূরে থাক, বরং হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না বলে আইন করেছেন, খুনীদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন, পার্লামেন্টে পর্যন্ত বসিয়েছেন। খালেদা তো আরেক ধাপ এগিয়ে বাঙালী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী (১৯৭১) গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদদের কেবল রাজনীতিতে নয়, তাদের মন্ত্রী বানিয়ে ৩০ লাখ শহীদ, ৬ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সঙ্গে বেঈমানী করেছেন। কি জাতির কাছে ওয়াদা অনুযায়ী শেখ হাসিনা যখন জাতির পাপ মুক্তির লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেন তখনও খালেদা জিয়া বললেন, দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, ক্ষমতায় গেলে ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেবেন। ততদিনে তালেবান-আল কায়েদা ট্রেনিং নিয়ে শিবির-সন্ত্রাসীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁকে অভয় দেয় যে, এমন আন্দোলন শুরু করা হবে যে আন্দোলনের তোড়ে শেখ হাসিনার সরকার, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ট্রাইব্যুনাল খড়-কুটোর মতো ভেসে যাবে। তারা দেশব্যাপী এমন ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করলÑ ট্রেনে আগুন, বাস-ট্রাক-অটোরিকশায় আগুন, রাস্তা কাটা, গাছ কেটে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, কি ধ্বংসটাই না করল ২০১৩ সালব্যাপী। ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে বসানো (?) হলো, সাঈদীর মুক্তির দাবিতে পবিত্র কাবা শরীফের খতিবগণ মানববন্ধন করছেন (নাউজুবিল্লাহ)। এমন বাটপাড়ি সাংবাদিকতাও করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিরোধ করার জন্য প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করা হয়েছে, ৫৩০টি ভোট কেন্দ্র (প্রাথমিক বিদ্যালয়) জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। নির্বাচন হয়ে গেল, দেশে শান্তি ফিরে এলো। দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলছে নজিরবিহীনভাবে। এখন আবার সেই একই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করেছে। এবারও আটঘাট বেঁধে নেমেছে। খালেদা জিয়া বাড়ি ছেড়ে দলীয় কার্যালয়কে বাসা বানিয়েছেন। মির্জা ফখরুলকে পাঠানো হয়েছিল জাতীয় প্রেসক্লাবে আসন গাড়তে। কিন্তু সচেতন সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে এক রাত কাটিয়ে পরদিন চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরই এই চলে যাওয়া সম্মানজনক হয়নি। এর জন্য তিনি নিজে দায়ী নন, বরং প্রেসক্লাবে জামায়াতপন্থী ম্যানেজমেন্ট কর্তারা তাঁকে এনে রাত যাপনের ব্যবস্থা করেছেন। ক্লাব থেকে বেরিয়ে তোপখানা রোডে যাবার পর মির্জা ফখরুল গ্রেফতার হয়ে গেলেন। বুধবার রাতে একুশে টিভির এক টকশোতে আওয়ামী লীগের খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রেসক্লাবের ঘটনাটি উল্লেখ করলে জামায়াত-বিএনপিপন্থী সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা এমএ আজিজ কতগুলো ডাহা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের ক্লাবের রাত যাপন যৌক্তিক হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন। তিনি বলেছেন, এই জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা, তোফায়েল আহমেদ, মরহুম আবদুল জলিল ‘ওভার স্টে’ করেছেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত সময় অবস্থান করেছেন। এটি ডাহা মিথ্যা কথা। তিনি যে সময়টার কথা বলেছেন তখন আমি জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলছিল। তখন ৮ দল নেত্রী শেখ হাসিনা, ৭ দল নেত্রী খালেদা জিয়া, ৫ দল নেতা রাশেদ খান মেনন দলবলসহ প্রায় প্রতিদিন প্রেসক্লাবে আসতেন। আমার কক্ষে বসতেন, কখনো-সখনো চা-ডালপুরি খেয়ে চলে যেতেন। রাত যাপন তো দূরের কথা, এক-দুই ঘণ্টার বেশি কেউ কোনদিন অবস্থান করেননি। একবার পুলিশ পিছু নেয়ায় আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল, কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ (সবার নাম মনে পড়ছে না) প্রেসক্লাবে এসে আশ্রয় নেন। বাইরে পুলিশের প্রস্তুতি। আমি পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করি। আরেকবার পুলিশ কিছুতেই শেখ হাসিনার গাড়ির গতিরোধ করতে পারছিল না। কদম চত্বরের পাশে ক্রেন দিয়ে গাড়ি উপরে তোলার চেষ্টা করলে শেখ হাসিনা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যান এবং প্রেসক্লাবে চলে আসেন। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তিনি চলে যান। আমি মনে করি এমএ আজিজ ‘ওভার স্টে’ শব্দ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। অবশ্য এ ধরনের মিথ্যা ভাষণ তাঁর এবং তাঁর ম্যাডাম পর্যন্ত স্বভাবজাত, যা তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শও বটে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি মির্জা ফখরুল ছাড়া কোন রাজনৈতিক নেতা কোনদিন প্রেসক্লাবে রাত যাপন করেননি, এমনকি জনতার মঞ্চের দিনগুলোতেও না। আমাদের সুশীল বাবুরা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে বিএনপিই সরকার গঠন করতে পারত। এটি বাহুল্য কথা। তাঁরা ভুলে যান বিএনপির ক্ষমতায় যাবার এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট আগেই বাতিল করা হয়েছে, তার ওপর দেশব্যাপী যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তাতে করে সাধারণ জনগণ বিএনপিকে ভোট দিত না, সে আমি বলতে পারি। হ্যাঁ, বিএনপি ছাড়া সুশীল সমাজের একটি অংশ ভোট দিতেন এটি সত্য কথা। কেউ কেউ বলেন, শেখ হাসিনা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলেছেন। এখন তিনি সে কথায় নেই। থাকবে কেন? খালেদা জিয়া তো নির্বাচন ঠেকানোর জন্য হত্যা-জ্বালাও-পোড়াও করে, দুই শ’ মানুষ হত্যা করেও ব্যর্থ হয়েছেন, ঠেকাতে পারেননি। কাজেই সে কথা এখন আর খাটে না। ইচ্ছে আছে সুশীল (বাটপাড়) বাবুদের সম্পর্কে একটা স্বতন্ত্র কলাম লেখার।

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের একটি কথা আছেÑ ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব ক্যানো?’ কথাটি সাহিত্য ঘাঁটাঘাঁটি করেন এমন সবারই জানা। তবু আমি উল্লেখ করলাম এজন্য যে, খালেদা জিয়া যত ‘অধমের’ কাজই করুন না কেন, শেখ হাসিনা তো তাঁর স্বভাবজাত ঐতিহ্যজাত ‘উত্তমের’ কাজই করবেন। বিএনপি-জামায়াতের নির্বোধগুলো নিশ্চয়ই মনে করছেন শেখ হাসিনাকে ঢুকতে না দিয়ে বিরাট কাজ করে ফেলেছেন। কেউ কেউ বগলও বাজাচ্ছেন। তবে বিএনপির সবাই নির্বোধ নন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বা মির্জা আব্বাস বলেছেন কাজটা ঠিক হয়নি। সবচেয়ে বড় হাঁড়িটি ভেঙ্গে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক এবং বিএনপিপন্থী প্রবীণ সাংবাদিক সাদেক খান। ইনজেকশনের বিষয়টিকে তারা অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সুস্থই ছিলেন। ব্যারিস্টার সাহেব নাকি এও বলেছেন, এরপর আর কিসের সংলাপÑ সংলাপে লাথি মার...।

ঢাকা ॥ ২৯ জানুয়ারি ২০১৫

লেখক : ফিল্যান্স সাংবাদিক