২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

একজন যুব সংগঠক


এ দেশের মহিলা অঙ্গনে অনুকরণীয় এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সেহেলী হক। নারী সমাজের ক্ষমতায়নের জন্য তিনি এক লড়াকু সৈনিক। তাঁর জীবনের লক্ষ্যই হচ্ছে, কিভাবে যুব মহিলাদের সংগঠিত করে তাদের কর্মসংস্থান/আত্মকর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করা যায়। সমাজ সচেতনতা তাঁকে অবিরত তাড়িত করতে থাকে। ১৯৪৭ সালে ২১ বছর বয়সে এজিবি কলোনিতে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকেই সমাজসেবায় সেহেলীর হাতেখড়ি। সেহেলী ১৯৮০ সালে মাত্র ১১ জন মহিলা নিয়ে ‘ঘরণী সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন।

যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করে নিয়মিতভাবে ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৮২ সালের ২৬ এপ্রিল ‘ঘরণী হস্তশিল্প সমবায় সমিতি’-এর রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাঁর সমবায় সংগঠক হিসেবে পরিচিতি ঘটে। সেহেলী হক ১৯৮০-৯১ সাল পর্যন্ত ঘরণী হস্তশিল্প সমবায় সমিতির সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে রমনা থানা কেন্দ্রীয় মহিলা সমিতির সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে এ যাবত প্রায় ৭ হাজার জনের বেশি যুব মহিলা বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবিকা-নির্বাহ করেছেন। ১৯৮৫ সালে তাঁর সংগঠন শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির পুরস্কার অর্জন করে। শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও সমাজসেবী হিসেবে সুনাম ও সাফল্য অর্জনের জন্য ১৯৮৬ সালে স্বর্ণপদক ও শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কার লাভ করেন।

সেহেলী হক ১৯৯২ সালেও শ্রেষ্ঠ মহিলা সমবায়ী হিসেবে স্বর্ণপদক ও সনদ লাভ করেন। অতঃপর তাঁর সংগঠনটি যুব উন্নয়ন অধিদফতর কর্তৃক তালিকাভুক্ত হয় এবং মহিলাবিষয়ক অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন পায়। সেহেলী হক অদ্যাবধি যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তিনি গড়ে তুলেছেন সুসংগঠিত প্রত্যয়দীপ্ত যুবসমাজ। ভারত, জাপান, আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চীনসহ অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। সেহেলী হক থেমে নেই দায়িত্ব পালন থেকে। তিনি সমাজকর্মী ও যুবসংগঠক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তাঁর প্রত্যাশাÑ তিনি যেন সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে যুবদের নিয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন। যুব উন্নয়ন তথা নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য সেহেলী হককে শ্রেষ্ঠ যুবসংগঠক হিসেবে জাতীয় যুব পুরস্কার ২০১৪ প্রদান করা হয়।

অপরাজিতা ডেস্ক