২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সময়ের আরামদায়ক পোশাক


উৎসবমুখর জাতি হিসেবে বাঙালীর ঐতিহ্য সুদীর্ঘ কালের। শীতকাল এলেই সেই গতি যেন আরও বেড়ে যায়। সারাবিশ্বে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যে গৌরবান্বিত পরিচয় রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে উৎসবপ্রিয় জাতি হিসেবে। দিনক্ষণ মেপে কোন উৎসব নয় একেবারেই প্রাণের আবেগ নিয়ে বাঙালী জাতি পালন করে তাদের উৎসব। আবেগময়তার কারণেই উৎসবে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। উৎসবগুলোও যেন প্রকৃতিকেন্দ্রিক। সারা বছর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হলেও শীতকালে এর মাত্রা বেড়ে যায়। অর্থাৎ নানা উৎসব-আয়োজন, পালা-পার্বণ এ মৌসুমকে ঘিরেই যেন আবর্তিত হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেড়ে যায় মানুষের ব্যস্ততা। কী পরবে, কিভাবে যাবে এই নিয়ে যেন ঘুম হারাম। তার ওপর আবার পার্টি ওয়াইজ ড্রেস সিলেকশনের ব্যাপার তো রয়েছেই। একটা সময় ছিল উৎসবের পোশাক নিয়ে তেমন চিন্তাভাবনা করত না কেউ। স্টকে থাকা ভাল জামাটাই ছিল অনুষ্ঠানে পরে যাওয়ার জন্য বরাদ্দ। বড়জোর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন জামা কেনা হতো। সেটাও আবার পার্টির ওপর ডিপেন্ড করে নয়। শুধু ভাললাগা থেকে জামাটা কেনা হতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে অনেক। পরিবর্তন এসেছে চিন্তাভাবনা এবং রুচিতে। সচেতনতা বেড়েছে বহুগুণে। মানুষ এখন পোশাকআশাক, কেনাকাটার ক্ষেত্রে কেতাদুরস্তের পরিচয় দিয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ফ্যাশনসচেতন হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে যথেষ্ট হিসেবি। বর্তমান সময়ে মানুষ অনেক ভেবেচিন্তে তাদের পছন্দের পোশাকটি সংগ্রহ করে থাকে। এই ভাবনাচিন্তার মধ্যে স্থান পায় অনুষ্ঠানের প্রকারভেদ, আবহাওয়া, অনুষ্ঠানস্থল, ইত্যাদি। অর্থাৎ অনুষ্ঠানভেদে পোশাক নির্বাচন করাটাই বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে। এ প্রসঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইনার ফুয়াদ হাসান জানান, এখন মানুষ পোশাক কেনার ব্যাপারে যতটা চুজি যা আগে যতটা দেখা যায়নি; এটা অবশ্য ইতিবাচক একটা দিক। এতে করে বোঝা যায় মানুষ এখন অনেকটাই ফ্যাশন সচেতন। যার ফলে আমাদেরও নজর রাখতে হয় ক্রেতার পছন্দের ওপর।

মানুষ তার কর্মব্যস্ত জীবনে এতটাই নিমগ্ন থাকে যে প্রকৃতির অমোঘ পরির্তন তার চোখ এড়িয়ে যায়। তারপরও কিছু কিছু ঋতু না চাইলেও চোখের সামনে ধরা দেয় অপূর্ব শোভা নিয়ে। শীত শেষ হওয়ার পথে। এখনও রয়েছে সেই আমেজ। তবে শীতের প্রকট একটু কম। হাঁটতে-চলতে এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করা যায়। কানে ভেসে আসে পাখির কলতান। প্রকৃতি যেমন তার রূপ বদলায়। নতুন সাজে ও রঙ্গে যেভাবে উদ্ভাসিত হয় ঠিক সেভাবেই আবর্তিত হয় ফ্যাশন। ঋতুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ফ্যাশনে আনা হয় পরিবর্তন। মৃদু-মন্দ, হাওয়া এবং মিষ্টি রোদের ঝলকানি মনকে নাড়া দেয়ার পাশাপাশি ফ্যাশনকেও নাড়া দিয়ে যায়, শেষ হয়ে এসেছে শীত, যার ফলে সময় হয়েছে শীতের মোটা জামা-কাপড়গুলো আলমিরাতে তুলে রাখার। তবে গরমটা সেভাবে পড়েনি বলে পাতলা ড্রেসও শোভা পায় না। কারণ এখনও রাতে ঘুমোতে গেলে সাধের নকশি কাঁথাটি জড়িয়ে নেন অনেকে। ফ্যাশন হাউসগুলোও এমন নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ফ্যাশনেবল ড্রেস। মূলত ফুলসিøভ ড্রেস প্রাধান্য পেয়েছে এ ফ্যাশনে। ফুল সিøভ ফ্যাশনে এবারে নতুন সংযোজন হুডি শার্ট এবং ফতুয়া। ফুলশার্ট কিং ফতুয়ার সঙ্গে ঘোমটা আকৃতির হুডি জুড়ে দিয়ে প্রচলন করা হয়েছে এ ফ্যাশনের। আগে ফুলসিøভ গেঞ্জির সঙ্গে হুডি লক্ষ্য করা যেত কিন্তু এখন তা শার্ট, ফতুয়াতেও সংযোজিত হয়েছে। যার ফলে ফ্যাশনে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। হুডি শার্ট সম্পর্কে ফ্যাশন হাউস ব্যাঙ-এর কর্ণধার প্রিন্স জানান, প্রথম দিকে অনেকটা এক্সিপেরিমেন্টালিক হুডি শার্ট বাজারে ছেড়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এর রেসপন্স দেখে এ প্রোডাক্টটি আমার শোরুমের জন্য নিয়মিত করে ফেলি।

ফ্যাশনে ভেরিয়েশন থাকলে ক্রেতারাও তা ভালভাবে গ্রহণ করে। নাতিশীতোষ্ণ হাওয়ায় এ ধরনের পোশাক বেশ মানানসই। কটন, খাদি এ্যান্ডি কটন কাপড়ই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে হুডি শার্টের ক্ষেত্রে। ফতুয়ার ক্ষেত্রে প্যাটার্নটা ফতুয়ার মতোই শুধু কলারের সঙ্গে একটা হুডি সংযোজন করা হয়েছে। ছেলে অথবা মেয়ে উভয়ের জন্যই ফুলসিøভ ড্রেস বেশ আরামদায়ক। ফুলসিøভ টি-শার্ট, পলো শার্ট অনায়াসেই মানিয়ে যায় এ আবহাওয়ায়। মানুষ যতই ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছে ততই বাড়ছে ফ্যাশন হাউসগুলোর সংখ্যা। যার ফলে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে পোশাক-পরিচ্ছদ। ইচ্ছে হলেই যুগোপযোগী পোশাকে সাজাতে পারেন নিজেকে। শীতের রেশ কাটিয়ে প্রতিটি ফ্যাশন হাউসেই চোখে পড়বে সময়োপযোগী পোশাক হুডি শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, পলো শার্ট ইত্যাদি। দামও ক্রয়সীমার মধ্যে। হুডি শার্ট পাওয়া যাবে ৫৫০-১২৫০ টাকার মধ্যে। ফুলসিøভ টি-শার্ট ৩০০-১৬০০ টাকা, হুডি ফতুয়া ৪০০-৭৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

ছবি : নেওয়াজ ও সাইদ

মডেল : আফজাল, তানহা

অনিক ও রাসেল