২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সূচকের পতন অব্যাহত


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উত্থান শুরু হলেও দেশের পুঁজিবাজারে জানুয়ারি মাসের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন সূচকের পতনেই হয়েছে। জানুয়ারি মাসজুড়েই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সূচকের সঙ্গে লেনদেনের গতিও হারিয়েছে। চলমান অবরোধের কারণে হিংসাত্মক কর্মসূচী যেমন বাড়ছে তেমনি অর্থনীতির সব সূচকই নিচের দিকে নামছে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিবেদন ইতিবাচক হওয়া এবং ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসলেও সেইভাবে ক্রেতা বাড়ছে না। যার কারণে মাসের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে ২০৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা কম। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ২৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার। দিনটিতে ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩০৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির শেয়ার দর।

সকালে সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পর শেষটাও হয়েছে পতন দিয়ে। বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমার কারণে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১১৫ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৭৪৭ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলো- সি এ্যান্ড এ টেক্সটাইল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, গ্রামীণফোন, আমরা টেকনোলজিস, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, জিএসপি ফিন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ডেসকো এবং স্কয়ার ফার্মা।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো- ন্যাশনাল পলিমার, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, রংপুর ফাউন্ড্রি, বিজিআইসি, কোহিনূর কেমিক্যাল, মুন্নু স্টাফলারস, এএমসিএল (প্রাণ) ও প্রাইম ব্যাংক।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো- এক্সিম ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, ন্যাশনাল টিউবস, মেট্রো স্পিনিং, বিডি অটোকারস, কেয়া কসমেটিকস, জেমিনি সী ফুড, জিএসপি ফাইনান্স ও আরকে সিরামিক।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক ১০৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪২৭ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ১৫৫টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- সি এ্যান্ড এ টেক্সটাইল, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেড, অলটেক্স, হামিদ ফেব্রিক্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, সুহৃদ ইন্ড্রাস্টিজ, সাইফ পাওয়ার টেক ও জিএসপি ফাইনান্স।

মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করবে ॥ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেস রুমে গবর্নর ড. আতিউর রহমান নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এই সময় তিনি জানান, এবারের মুদ্রানীতিতে তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এ মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এবারের মুদ্রানীতি সতর্কতামূলক বা সঙ্কোচনমূলক বলেও এ সময় উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর।