২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইইউকে গ্রীসের চ্যালেঞ্জ


গ্রীসের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস বিরাষ্ট্রীয়করণ পরিকল্পনা বন্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অথচ দেশটিকে দেউলিয়াত্ব থেকে উদ্ধার করার বেইল আউট চুক্তির আওতায় গ্রীস এ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল। এ নতুন প্রদক্ষেপের ফলে গ্রীসের আর্থিক বাজারে ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বুধবার এদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবারের নির্বাচনী বিজয়ের পর নয়া প্রধানমন্ত্রী বুধবার তার কেবিনেটের প্রথম বৈঠকে বলেন, তার দেশ এর ঋণ পরিশোধে খেলাপী হবে না। খবর বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

গ্রীক সরকারের ত্বরিত ঘোষণায় এটি এর কৃচ্ছ্রনীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতিতে অবিচল থাকবে বলেই আভাস পাওয়া গেল। এতে দেশটি জার্মানির নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানেই দাঁড়াবে। জার্মানি গ্রীসকে এর বিশাল ঋণ পরিশোধে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য প্যাকেজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা করবে না বলে আগে জানিয়েছিল। সিপরাস বলেন, তিনি ১৪ হাজার কোটি ইউরোর (২৭ হাজার কোটি ডলার) বেইল আউট নিয়ে দাতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। সিরিজা পার্টির নেতা বলেন, আমরা পারস্পরিক ধ্বংসাত্মক সংঘাতে জড়িত হব না কিন্তু আমরা অধীনস্থ স্বীকারের নীতি বজায় রাখব না। সিপরাস তার কেবিনেট মন্ত্রীদের বলেন, তারা কৃচ্ছ্রনীতির আওতায় জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাওয়ায় কষ্টের মুখে পড়া ভোটারদের হতাশ করতে পারেন না। সিপরাস নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে ফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

সরকার মঙ্গলবার পাইরিউস বন্দরের বেসরকারীকরণ বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে। এখন সমগ্র পরিকল্পনাটিই স্থগিত রাখা হয়েছে বলে সরকার আভাস দিয়েছে। ঐ বন্দরের পরিচালনার জন্য চীনের কসস্কো গ্রুপ ও অন্য চারটিকে বাছাই করা হয়েছিল। সরকার গ্রীসের সবচেয়ে বড় জনউপযোগ সংস্থা পাবলিক পাওয়ার কর্পোরেশন অব গ্রীস এবং তেল শোধনাগার হেলেনিক পেট্রোলিয়ামের শেয়ার বিক্রি বন্ধ করে দেবে এবং মোটরপথ, বিমানবন্দর ও পাওয়ার গ্রিডের পরিসম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা স্থগিত রাখবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা ঘোষণা করা হয়।

সরকার পাবলিক সেক্টরের অনুচিতভাবে হল অব করা হয়েছিল বলে মনে হয় এমন কর্মচারীদের পুনর্বহালে পরিকল্পনা করছে। সরকার নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্ত মানুষের পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে গ্রীসের নয়া সরকারের সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেই সীমিত থাকেনি। রাশিয়ার ওপর ইতোপূর্বে আরোপিত ইইউর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছয় মাসের জন্য বাড়ানোর আগেই গ্রীসের জ্বালানিমন্ত্রী তার দেশ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেন। ইউক্রেন প্রশ্নে ব্লগটির মঙ্গলবার জারি করা এক যৌথ বিবৃতি নিয়ে এথেন্স ইতোপূর্বেই ভিন্নমত ব্যক্ত করে।

সিপরাস তার মন্ত্রীদের বলেন যে, সরকার দাতাদের সঙ্গে পরস্পর ধ্বংসাত্মক এমন কোন সংঘাত চাইবে না। কিন্তু তিনি সতর্ক করে দেন যে গ্রীস নিয়ে নতুন করে আলোচনার দাবি থেকে সরে যাবে না। তিনি বলেন, আমরা এদেশে যেভাবে সরকারী নীতি ও প্রশাসন পরিচালনা করা হয়, তা ব্যাপকভাবে বদলে দেব। গ্রীসের অর্থ বাজারে ভীতিভাব ছড়িয়ে পড়ে। দেশটি ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দাম বুধবার শতকরা ২৬ ভাগ পড়ে যায়। এতে নির্বাচনের পর থেকে তাদের মিলিত লোকসানের পরিমাণ শতকরা ৪০ ভাগ ছাড়িয়ে যায়।

জার্মানির সতর্কবাণী

জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, অন্যান্য রাষ্ট্র গ্রীসের ব্যয় মেটাবে বলে দেশটির প্রত্যাশা করা অনুচিত। আমি ঋণ হ্রাসের কথা কল্পনা করতে পারি না। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য হবে গ্রীসকে ইউরোজোনের মধ্যে রাখা কিন্তু সংহতি ও ন্যায়পরায়ণতা উভয়ই বজায় রাখতে হবে।