২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইয়েমেনে সঙ্কট লাভবান আল কায়েদা!


ইয়েমেনে সঙ্কট  লাভবান আল কায়েদা!

শিয়াপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন। এতে দেশটির সঙ্কট আরও বেড়ে গেল। দেশটির এখন কাদের নিয়ন্ত্রণে, তা নিয়েও আছে বিভ্রান্তি।

হুতি যোদ্ধারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশের দক্ষিণের সুন্নি-অধ্যুষিত চারটি প্রদেশের কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখন থেকে তারা সানার কোন সামরিক আদেশ মানবে না।

ইয়েমেনের প্রস্তাবিত সংবিধানের মাধ্যমে দেশকে দরিদ্র ও ধনী অঞ্চলে বিভক্ত করে ফেলা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক হুতি যোদ্ধারা গত শনিবার থেকে সানায় সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করে। সরকারী বাহিনীর সঙ্গে দুই দিন লড়াইয়ের পর তারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বেশির ভাগ সরকারী দফতরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হুতিদের দাবি, খসড়া সংবিধানে পরিবর্তন আনতে এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে প্রেসিডেন্ট আবদুরাবুহ মানসুর হাদি বুধবার সম্মত হন। তবে চুক্তি অনুযায়ী, হুতি যোদ্ধারা গত বৃহস্পতিবারও সরকারী ভবনগুলো থেকে সরে না যাওয়ায় অচলাবস্থার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী খালিদ বাহাহর মন্ত্রিসভা প্রেসিডেন্ট হাদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়।

বাহাহ বলেন, এখন যা ঘটছে এবং ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তার অংশ হতে চান না। এর কিছুক্ষণ পরই প্রেসিডেন্ট হাদির পক্ষ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা আসে। হাদি আল-কায়েদাবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি বলেন, দেশ যেখানে সম্পূর্ণ অচলাবস্থার মধ্যে, সেখানে তিনি আর দায়িত্বে থাকতে পারেন না। হাদি বলেন, আমি মনে করি, যে লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তা আমি পূরণ করতে পারিনি।

দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট হাদির পদত্যাগ গ্রহণ করেনি। তিনি জানান, পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে খুশি হুতি নেতারা। তাঁরা প্রকাশ্যেই এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। হুতিদের আদর্শিক নেতা হিসেবে বিবেচিত আবু আল-মালেক ইউসেফ আল-ফিশি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, এ পদক্ষেপ সব নাগরিকের জন্য খুশির খবর। দেশ এখন নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

হাদির পদত্যাগের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের চার প্রদেশের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতি দেয়। এডেন, বাবিয়ান, লাজেহ ও ডালেহ প্রদেশ নিয়ে গঠিত এলাকাটি হাদির সমর্থকদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। চার প্রদেশের সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক দায়িত্বে থাকা কমিটি রাজধানী সানায় হুতিদের উত্থানের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা এখন থেকে সানার সব ধরনের সামরিক আদেশ অমান্য করবে। হুতিদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগের ঘোষণার পর ইয়েমেনে কার্যত এখন কোন সরকার নেই। এই নেতৃত্বের শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে আগে থেকেই সক্রিয় জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের নবেম্বরে ইয়েমেনের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে একটি বহুদলীয় ‘টেকনোক্র্যাট’ সরকার গঠন করা হয়। ৩৬ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় শিয়াপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠী হুতির প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্র এ নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইয়েমেনের এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় হতাশ যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক জেনারেল হাদি হাউতি বিদ্রোহীদের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, রাজধানী সানা বিদ্রোহীরা দখলে নেয়ায় ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার দুই বছরের প্রচেষ্টা কোন ফল পায়নি। আরব উপদ্বীপের আড়াই কোটি জনসংখ্যার এই দেশটির হাউতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় এই শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আর এরপর থেকেই প্রেসিডেন্ট হাদির কাছে নানা দাবি আর শর্ত জানাতে থাকে হাউতি গোষ্ঠী। একটি হোটেলের নিরাপত্তার তদারকের দায়িত্ব পালনকারী আহমেদ আল-ফাতেস বলেন, ‘এটি একটি অভ্যুত্থান।’

হাদিকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, হাউতিরা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। হাদিই বৈধ প্রেসিডেন্ট এবং ৬০ লাখ ইয়েমেনি তাকে নির্বাচন করেছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা আনার চেষ্টা করেছেন।