২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গ্রীসে কৃচ্ছ্রবিরোধী বামপন্থী সিরিজা পার্টির জয়


গ্রীসের সাধারণ নির্বাচনে কট্টর বামপন্থী সিরিজা পার্টির জয়ে সোমবার কৃচ্ছ্রবিরোধী এক নতুন যুগের সূচনা হলো। রবিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয়ের পর দেশকে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে কৃচ্ছ্রবিরোধী বামপন্থী এই দলটি। কারণ ঋণ ও অর্থসঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে গত কয়েক বছর ধরে গ্রীসে যে মিতব্যয়িতা বা কৃচ্ছ্রনীতি চলছে তার কঠোর বিরোধী সিরিজা পার্টি। এছাড়া এই দলের জয়ে ইউরো অঞ্চল থেকে গ্রীসের বেরিয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসি।

৩০০ সদস্যের গ্রীক পার্লামেন্টে সিরিজা পার্টি ১৪৯টি আসন পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরও দুটি আসন দরকার। ৯২ শতাংশ কেন্দ্রের ভোট গণনার পর ঐ ফল জানা যায়। মধ্য ডানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাসির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনতোনিস সামারাস এই নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। সিরিজা পার্টির নেতা ৪০ বছর বয়সী আলেক্সি সিপরাসকে ফোন দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইইউ ও ইউরোর সদস্যপদকে নতুন সরকার হুমকির মুখে ফেলবে না বলেও আশা তার। সিরিজার নেতা সিপরাস তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গ্রীসের গত পাঁচ বছরের অবমাননা ও যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, গ্রীকরা ইতিহাস গড়েছে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে গ্রীসের ৩২ হাজার কোটি ডলার ঋণ চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার কথাও জানিয়েছেন। গ্রীসে সাধারণ নির্বাচনের এই ফলকে ইউরোপের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমে আগেই বলা হয়েছে, এ নির্বাচনের ফলের ওপর আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতার গতিপ্রকৃতি এবং গ্রীসের ইউরো মুদ্রা অঞ্চলে থাকা না-থাকা নির্ভর করতে পারে। নির্বাচিত নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে দেশের ঋণসঙ্কট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে নতুন করে সমঝোতার আলোচনা করা। অবশ্য সিরিজার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইউরো অঞ্চলের সঙ্কটের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করেছে। গ্রীসকে ইউরো জোনের অন্তর্ভুক্ত দেশ হিসেবেই দেখতে চায় সিরিজা।

যুক্তরাজ্য ইউরো জোনে না থাকলেও নির্বাচনের ফলের প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, গ্রীসের নির্বাচনের ফল পুরো ইউরোপের অর্থনীতিকেই নতুন করে অনিশ্চয়তায় ফেলবে। ইইউ নেতারা বলে আসছেন, ভোটের ফল যাই হোক না কেন, গ্রীসের উচিত হবে ঋণ নেয়ার সময় স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তকে সম্মান জানানো। অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে গ্রীস কয়েক বছর ধরে হিমশিম খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার শর্ত পূরণ করতে দেশটি বাজেট সংকোচনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। অনেকের আশঙ্কা, সিরিজার জয়ে গ্রীস হয়ত ঋণসহায়তা গ্রহণের শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হবে। তারা ইইউর সদস্য ১৯টি দেশের একক মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করার সুযোগও হারাতে পারে।