২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রামেক হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অগ্নিদগ্ধ ৯ যাত্রী


মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহীতে চলন্ত বাসে জামায়াত-শিবিরের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ চার বছরের শিশু আছিয়া এখনও কাতরাচ্ছে রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। ঘটনার পর থেকে পোড়া মুখম-লের যন্ত্রণায় তার কান্না থামছে না। তাকে রামেক হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে কাঁদছেন আরও আট জন। তবে শিশু আছিয়ার যন্ত্রণার মাত্রাটা অনেক বেশি। পেট্রোল বোমায় দগ্ধ আছিয়ার অবস্থা বেশি সঙ্কটাপন্ন।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডাঃ কামাল হোসেন বলেন, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ শিশু আছিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মুখম-লসহ হাত ও পায়ের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তানোর উপজেলার কাশিমালা গ্রামের দিনমজুর আজিম উদ্দিনের দুই মেয়ে আছিয়া ও ফারহানা। এদের মধ্যে ছোট আছিয়ার বয়স চার বছর। বড় বোন ছয় বছরের শিশু ফারহানা শারীরিক প্রতিবন্ধী। ফলে আছিয়াকেই নিয়ে স্বপ্ন তার পিতা আজিম উদ্দিনের।

আজিম উদ্দিন বলেন, বলতে পারেন, আমি কাকে নিয়ে বাঁচব? আমার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে ফারহানা শারীরিক প্রতিবন্ধী। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় তাকে। ছোট মেয়েকে নিয়েই স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজ সেই স্বপ্নও শেষ হতে বসেছে পেট্রোল বোমার আগুনে। রামেক হাসপাতালের আইসিইউর দরজায় দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে আজিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন আছিয়ার মুখম-ল বেশি পুড়েছে। শ্বাসনালীও ক্ষতি হয়েছে। একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আছিয়ার নানা মকবুল। তাকেও রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আজিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুর মকবুল তার মেয়েকে নিয়ে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকায় গারমেন্টসে কাজ করেন জুলেখা। মঙ্গলবার নাতনি ফারহানাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ি তানোরের ইলামদহী এসেছিলেন। শুক্রবার রাতে ওই বাসে ঢাকা ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি রাজশাহী আসছিলেন। পথে হামলার শিকার হন তিনিও। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় জুলেখা ও ফারজানা রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

জুলেখার স্বামী মজিবুর জানান, অনেকদিন গ্রামের বাড়িতে আসা হয় না। সে কারণে স্ত্রী জুলেখা নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে তানোরে এসেছিলেন। ফেরার পথে হামলার শিকার হন তারা। অগ্নিদগ্ধ জুলেখা বলেন, একটা শব্দের পরপরই দেখি আমার শরীরে আগুন জ্বলছে। দুই হাত দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছিলাম। পাশে নাতনি ফারহানা ছিল। খেয়াল করে দেখি নাতনি ফারহানারও দুই হাত জ্বলছে। আগুন মুহূর্তেই হাত আর মুখ ঝলসে দিল।

একই উপজেলার আজিজপুরের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী ও দেবীপুরের শামীম আক্তারের স্ত্রী অজিফা বেগমকেও ওই ঘটনায় রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন জানান, অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় এরই মধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া দগ্ধদের চিকিৎসার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা মনিটরিং করছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তানোর সদরের ব্র্যাক মোড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ইয়ারাব্বি পরিবহনে (ঝিনাইদহ জ-০৪-০০-৮) অবরোধকারীরা পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে। এতে শিশু আছিয়াসহ ৯ যাত্রী দগ্ধ হন।