২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউক্রেন বিদ্রোহীদের সহায়তা বন্ধ করুন ॥ ন্যাটো-ইইউ


ইউক্রেনে বিদ্রোহীদের সহায়তা বন্ধে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো। ইউক্রেনের বন্দর মারিওপোলে গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হওয়ার পর ব্রাসেলস একটি জরুরী বৈঠকের কথা বিবেচনা করছে।

লাতভিয়া আগামী সপ্তাহে ইইউ পররাষ্ট্রবিষয়ক পরিষদের জরুরী বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ইইউ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে লাতভিয়া। লাতভিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মারিওপোল নগরীতে ঘটনাবলীর আলোকে বলা যায় যে, ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী নয় রাশিয়া। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আগ্রাসনের জন্য দায়ীদের জানা উচিত, সহিংসতা আরও জোরদার করা হলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্দেহাতীতভাবে ও তীক্ষèভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা বন্ধ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানাতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ঘোরতর যুদ্ধ চলছে এবং রাশিয়ার সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযান জোরদার করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটা অস্ত্রবিরতির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার বাহিনীর উপস্থিতি আমরা দেখছি। মস্কো অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কিয়েভ নিয়ন্ত্রিত বন্দর মারিওপোলে শনিবার গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়। স্বঘোষিত দোনেৎস্ক প্রজাতন্ত্রের নেতা আলেকজান্দার জাখারচেনকো মারিওপোলে অভিযানের ঘোষণা দেয়ার পর ন্যাটো ও ইইউ এর নিন্দা জানাল।ইইউ পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মগহেরিনি শনিবার মারিওপোলে রকেট হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সহিংসতা জোরদার হলে তা ইইউ ও রাশিয়ার সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটাবে। তিনি রাশিয়াকে সরাসরি মধ্যস্থতার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইইউ ইউক্রেন সঙ্কটে রাশিয়ার ভূমিকার জন্য দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউক্রেনে সরকার নিয়ন্ত্রিত মারিওপোল বন্দরে ভয়াবহ রকেট হামলা ও রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধাদের ‘উস্কানিমূলক’ বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। ক্রেমলিনপন্থী বিদ্রোহীরা শনিবার মারিওপোলে নতুন করে অভিযান ও ভয়াবহ রকেট হামলার ঘোষণা দেয়ার পর বান এ নিন্দা জানান। বানের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মহাসচিব উল্লেখ করেন, বেসামরিক এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন।’ শুক্রবার বিদ্রোহী নেতাদের একতরফাভাবে অস্ত্র বিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিশেষত নতুন এলাকা দখলের ব্যাপারে তাদের উস্কানিমূলক বিবৃতির নিন্দাও জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি বলেন, অস্ত্র বিরতি প্রত্যাহার সেপ্টেম্বরের মিনস্ক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই চুক্তিতে ভারি অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার ও অস্ত্র বিরতি পালনের শর্ত ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের শান্তি, আঞ্চলিক অখ-তা ও স্থিতিশীলতা অবশ্যই জরুরীভাবে পুনরুদ্ধার করতে হবে। খবর এএফপির।