২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাংস্কৃতিক আবহে জাবি


সূর্যটা ডুবি ডুবি, খুব স্নিগ্ধ, কেমন মায়াময় একটা পরিবেশ, হালকা একটু ঠা-া, আর পাখিগুলো কী যেন সব বলেই চলেছে তাদের কিচির মিচিরে। তার সঙ্গে মিশে গেছে গীটারের টুং টাং। সবকিছু একইসঙ্গে, একই তালে, যন্ত্র নগরের ব্যস্ততার ভিড়ে আদৌ কি এই স্বপ্ন দেখা সম্ভব! কিন্তু স¦প্নটা যদি সত্যিই সম্ভব হয় ঢাকার অদূরেই, প্রাণাধিক প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে! আর তাইতো কত নামে, কত বিশেষণেই না ডাকা হয় আদরের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে, অনেকে তো আবার ভালবেসে ‘জানবিবি’ই (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত রূপকে একটু ঘুরিয়ে) ডেকে বসে। বলতেইবা দোষ কই, জাবি যে তার শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে রেখেছে পরম মমতায়, অদ্ভুত এক আত্মিক বন্ধনে।

সেই যে সকালে দৌড়ে ক্লাস ধরতে যাওয়া দিয়ে দিনটার শুরু হয় শিক্ষার্থীদের, হলে যাওয়ার আর ফুরসত মিলে না। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে মুন্নি চত্বর, মুরাদ চত্বর, ট্রান্সপোর্ট কিংবা মেহের চত্বরে কাপের পর কাপ ধোঁয়া ওঠা চা। ক্লাসের শেষে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে তারা যায় প্রিয় বটতলার খালার দোকানে, কেউ হাফিজ ভাইয়ের দোকান অথবা সুজন ভাইয়ের দোকানে। খালা-মামাদের হাসি মুখের উষ্ণ অভ্যর্থনাই জানিয়ে দেয় কতটা আন্তরিকতা ছড়িয়ে রয়েছে প্রাণের জাবির প্রতিটি পরতে পরতে।

বিকেল গড়াতে না গড়াতেই ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ বলে খ্যাত প্রাণের এই ক্যাম্পাসটিতে শুরু হয়ে যায় আড্ডা। কখনও বাঁধনে, কখনও টিএসসিতে। বর্ষার সময়টুকু বাদ দিয়ে সারাবছরই চলতে থাকে কোন না কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আবৃত্তি সংগঠন ‘ধ্বনি’ মাতিয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। এরপরের দিনই দেখা যায় তুমুল বিতর্ক নিয়ে মেতে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। আর নাটকের কথা তো না বললেই নয়, নাট্যতত্ত্ব বিভাগ কিংবা জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার তো দিয়েই চলছে একের পর এক প্রযোজনা।

আর এ রকম মায়াময় বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে, সুন্দর সাংস্কৃতিক আবহের মধ্য দিয়ে তো খুলে যায় অগণিত শিক্ষার্র্থীদের মননশীলতার দুয়ার। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুকে ধারণ করে স্বীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তথাপি দেশকে।