১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রবীঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিণডিহি এখন পর্যটন কেন্দ্র


ফুল, ফল আর বিচিত্র গাছ গাছালিতে ঠাসা সৌম্য-শান্ত একটি গ্রাম দক্ষিণডিহি। খুলনা ও যশোর জেলার শেষ সীমানায় খুলনার ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এ গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামের ঠিক মধ্য খানে রয়েছে এক জমিদার বাড়ির বিশাল প্রাঙ্গণ। ওই বাড়িতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীর স্মৃতিধন্য দোতলা ভবন। এটাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ প্রাচীন ভবনটিকে সংস্কার করে সেখানে স্থাপন করেছে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর। প্রশাসনের আওতায় বাড়ির অপর অংশে রয়েছে মৃণালিনী মঞ্চ। মঞ্চের পেছনে তৈরি করা হচ্ছে পিকনিক কর্ণার। বিভিন্ন সময়ে বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি পরিদর্শনে দেশী-বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসছেন। ২৫ বৈশাখ ও ২২ শ্রাবণ জাতীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এখানে নানা আয়োজনে রবীন্দ্রজয়ন্তী ও কবিপ্রয়াণ দিবস পালন করা হয়।

কলকাতার জোড়া সাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণডিহির সম্পর্ক নিবিড়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা সুন্দরী দেবীর জন্ম এই গ্রামে। রবীন্দ্রনাথের কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী এবং স্ত্রী মৃণালিনী দেবী দক্ষিণডিহিরই মেয়ে। যৌবনে কবি কয়েক বার দক্ষিণডিহি গ্রামে মামা বাড়িতে এসেছেন। পরে বিবাহ সূত্রে দক্ষিণডিহিতে এসেছেন। রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনী দেবীর স্মৃতিধন্য বাড়িটি দীর্ঘ প্রায় চার যুগ ধরে অবৈধ দখলে ছিল। খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রমুখের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাড়িটি দখল মুক্ত হয়। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ অনুন্নয়ন খাতে উন্নয়ন শীর্ষক কর্মসূচীর প্রস্তাবনার আওতায় ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ির প্রাচীন দ্বিতল ভবন এবং উন্মোচিত বাউন্ডারি ওয়ালের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এখানে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ মে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি এর উদ্বোধন করেন।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ আমিরুজ্জামান জানান, দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘরে পূর্ব থেকে প্রদর্শিত আলোকচিত্র সমূহের পাশাপাশি ভবনটি সংস্কারের আগে ও পরের ২২টি আলোকচিত্র সংবলিত ৪টি ও কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত ২টি নতুন ডিসপ্লে বোর্ড প্রস্তুত করে জাদু ঘরে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাদুঘরের সময়সূচী অনুযায়ী এটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

-অমল সাহা, খুলনা থেকে