১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দৃষ্টিনন্দন পুঠিয়ার রানী হেমন্তকুমারীর প্রাসাদ


মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে ॥ ইতিহাসসমৃদ্ধ রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান বলতে সবার আগে নাম আসবে পুঠিয়ার রাজবাড়ি। প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে এখন সমাদৃত। নানা কারণে রাজবাড়ির ভগ্নদশা হলেও এর মনোহর সৌন্দর্য এখনও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। দেশের উত্তরাঞ্চলে (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) যে ১৮৪টি প্রতœনিদর্শন সংরক্ষিত পুরাকীর্তি রয়েছে এসবের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি অন্যতম। এখানে ১৪টি স্থাপনা সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। এসবের মধ্যে একটি রাজবাড়ি ও অবশিষ্ট ১৩টি মন্দির। অধিকাংশ মন্দিরে পোড়ামাটির চিত্রফলক স্থাপিত আছে। তবে কালের বিবর্তণে ক্ষয়ে যাচ্ছে এসবের সৌন্দর্য্য।

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবংশের উৎপত্তি হয় মোগল সম্রাট আকবরের আমলে। সেই সময় রাজশাহীর আলাইপুর এলাকার পাঠান জায়গীরদার লস্কর খাঁ ছিলেন। তাঁরই নাম অনুসারে পুঠিয়া পরগণা লস্করপুর নামে পরিচিতি লাভ করে। রাজবাড়ির মূল ভবনের সামনের দেয়ালে শ্বেত পাথরের খোদাইকরা লিপি থেকে জানা যায়, ১৮৮৫ সালে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী রাজপ্রসাদটি নির্মাণ করেন। তিনি মহারানী শরৎসুন্দরী দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে রাজবাড়িটি উৎসর্গ করেছিলেন।

পুঠিয়া বাজারের দক্ষিণে শ্যামসাগর দীঘির পূর্ব পাশে ৪ দশমিক ৩১ একর জমির ওপরে আয়তনাকার পরিকল্পনায় নির্মিত দ্বিতল রাজবাড়ি এখনও অনেক আকর্ষণীয়। পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে সুন্দর। পুকুর বেষ্টিত উত্তরে মুখ করে প্রাসাদটি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। রাজবাড়ি কাছারি অঙ্গনের উত্তর ও পশ্চিমের দ্বিতল দুটি ব্লক ব্যতীত প্রাসাদের অন্য অংশ এক তলা আকারে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাসাদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ইট, চুন, সুরকি, লোহা ও কাঠ। দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে কারুকাজম-িত টেরাকোটা।

কাছারি ও মন্দিরে প্রবেশের জন্য রাজবাড়িটির সম্মুখে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে দুটি বাড়ি বারান্দাসহ সুউচ্চ বিশাল ফটক বা রাজবাড়ির প্রবেশ তোরণ। পশ্চিমের ফটক দিয়ে কাছারি অঙ্গন ও পূর্বপাশের ফটক দিয়ে মন্দির অঙ্গনে প্রবেশ করা যায়।